শীতকালীন সব্জি মটরশুটি, আলু, ফুলকপির সুস্বাদু তরকারি | Winter Vegetables Green Peas, Cauliflower, and Potato Curry
শীতকালে প্রচুর পরিমানে শাক, সব্জি বাজারে পাওয়া যায় তার মধ্যে যেমন ফুলকপি, নতুন আলু, মটরশুটি ইত্যাদি। তাই শীতকালের তাজা সব্জি দিয়ে তরকারি বানিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। ফুলকপি কিছু কিছু জায়গায় সারাবছর পাওয়া যায় তবে শীতকালের মত স্বাদ হয় না। ফুলকপি, আলু ও মটরশুটির ঘন ঘন তরকারি লুচি, পরটা, রুটি ও ভাতের সাথে দারুণ লাগে খেতে।
এই তরকারিটি রান্না করতে পিঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার করেছি। পিঁয়াজ ও রসুন ব্যবহার না করলে আদার পরিমান একটু বাড়িয়ে দিলে হবে। তবে পিঁয়াজ ও রসুন ছাড়াও এই তরকারি ভালো লাগে খেতে। সাদাতেল ও ঘি দিয়ে এই তরকারিটি তৈরি করা হয়। চলুন দেখে নেওয়া যাক ফুলকপি, আলু ও মটরশুটির তরকারি তৈরি করার পদ্ধতি। এছাড়াও আরো কিছু সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করা আছে যেমন নিরামিষ বাঁধাকপি, পটলের দোরমা, এঁচোড়ের তরকারি, কাঁকরোল পুর এইগুলো দেখে নিতে পারেন।
ফুলকপির তারকারি বানানোর জন্য লাগবে ফুলকপি, আলু, মটরশুটি, টমেটো, পিঁয়াজ, আদা বাটা, রসুন বাটা, চারমগজ বাটা, টমেটো বাটা, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা কুচি, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, নুন, সর্ষের তেল, আস্ত জিরে ও গরম জল। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
ফুলকপি মধ্যেম আকারে কেটে, ধুয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে
প্রথমে ফুলকপির ফুলগুলো মধ্যম আকার করে কেটে নিতে হবে। এরপর চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তার মধ্যে জল, নুন ও ফুলকপি দেওয়ার পর জল ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। ফুলকপির টুকরো গুলোকে ঝাঝরির মধ্যে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
ফুলকপির মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই পোকা পাওয়া যায়। তাই ফুলকপি কাটার পর কড়াইতে জল, নুন ও ফুলকপির টুকরো দিয়ে চুলা জ্বালিয়ে বসিয়ে দিতে হবে। তারপর জল ফুটে উঠার পর নামিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। এভাবে ফুলকপি একটু ভাপিয়ে নিলে পোকা মরে আলাদা হয়ে যাবে।



সব সব্জি কেটে ধুয়ার পর জল ঝরিয়ে একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে
আলু, পিঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে টমেটো, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা সবগুলো ধুয়ে কেটে নিতে হবে। তারপর আদা, কাঁচা লঙ্কা, রসুন, টমেটো ও চারমগজ বেটে একটি পাত্রের নিয়ে নিতে হবে। মটরশুটি ধুয়ে একটি ছোট পাত্রে নিয়ে নিতে হবে।
আলু কাটার সময় একটি পাত্রের মধ্যে জল নিয়ে রাখতে হবে। আলুর খোসা ছাড়ানোর পর বা টুকরো করার পর সঙ্গে সঙ্গে জলের মধ্যে ভিজিয়ে নিতে হবে কারণ আলু কাটার পর জলের মধ্যে না ভেজালে কালো হয়ে যায়।


গুড়ো মশলা ও ফোঁড়নের জন্য আস্ত মশলা নিয়ে নিতে হবে
তারপর হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, নুন, আস্ত জিরে ফোঁড়নের জন্য নিয়ে নিতে হবে। ফোঁড়নের জন্য আমি শুধু জিরে ব্যবহার করেছি, এর জায়গায় আস্ত গরম মশলা ও তেজপাতা ব্যবহার করা যেতে পারে।

তারপর কেটে ও ধুয়ে রাখা আলু ভেজে নিতে হবে
তারপর গ্যাস চুলা জালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিত হবে। এরপর সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর কেটে ধুয়ে রাখা আলু ও অল্প নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে। আলু হালকা লাল করে ভাজতে হবে।
অনেক সময় দেখা যায় আলু কড়াইতে দেওয়ার সময় তেল ছিটকে হাতে ও শরীরে পড়ে। কড়াইতে তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর অল্প নুন ও হলুদ গুড়ো দিয়ে আলু ছাড়লে তেল ছিটকবে না।


এরপর ফুলকপির টুকরো গুলোকে ভেজে নিতে হবে
আলু ভাজা হওয়ার পর একটি পাত্রের তুলে রাখতে হবে। ঐ তেলের মধ্যে ফুলকপি ও অল্প নুন দিয়ে ভালোকরে ভেজে নিতে হবে। কম আঁচে ফুলকপির টুকরো গুলোকে ভাজতে হবে। আমি আলু ও ফুলকপি আলাদা করে ভাজা করেছি, তবে এই গুলোকে একসাথে ও ভেজে নেওয়া যায়।

তারপর জিরে ফোঁড়ন দিয়ে পিঁয়াজ কুচি ভেজে নিতে হবে
Lফুলকপি ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রের মধ্যে তুলে নিয়ে ঐ একই কড়াইতে আবার ও সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর জিরে ফোঁড়ন দিতে হবে। জিরে লাল হয়ে আসার পর পিঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
পিঁয়াজ ভাজার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে পিঁয়াজ পূড়ে না যায়। পিঁয়াজ পূড়ে গেলে তরকারির স্বাদ নষ্ট হয়ে যাবে। তাই পিঁয়াজ ভাজার সময় কম আঁচে একটু পর পর নাড়াতে হবে।



তারপর আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ভেজে নিতে হবে
পিঁয়াজ লাল করে ভাজার পর আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে। চুলার আঁচ কমিয়ে পিঁয়াজ, আদা ও রসুন ভাজা করতে হবে।
পিঁয়াজ, রসুনের জায়গায় আদা বাটা ও টমেটো বাটা দিয়ে এটি রান্না করলে ভালো লাগবে খেতে।

এরপর টমেটো বাটা দিয়ে ভালোকরে কষিয়ে নিতে হবে
আদা ও রসুন বাটা ভালোকরে ভাজার পর টমেটো বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট কষিয়ে নিতে হবে। টমেটো বাটা দেওয়ার পর নাড়াতে হবে ভালোকরে। টমেটো বাটার জায়গায় টমেটো কুচি ও টুকরো ব্যবহার করা যেতে পারে।


তারপর পরিমানমত গুড়ো মশলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
তারপর পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, স্বাদমত নুন ও অল্প গরম জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। মশলার যত ভালোকরে কষানো হবে তরকারির স্বাদ ততো বাড়বে।


চারমগজ বাটা ও মটরশুটি দিয়ে মশলার সাথে কষিয়ে নিতে হবে
মশলার কষানো হয়ে গেলে চারমগজ বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে ভালোকরে নেড়ে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর মটরশুটি দিয়ে একটু সময় কষিয়ে নিতে হবে। এখানে তাজা মটরশুটির জায়গায় ফ্রোজেন মটরশুটি ব্যবহার করা যেতে পারে।



ভেজে রাখা আলু, ফুলকপি দিয়ে মশলার সাথে কষিয়ে পরিমানমত গরম জল দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে
তারপর এক কাপ গরম জল দিয়ে ভেজে রাখা ফুলকপি, আলু ও টুকরো করে রাখা টমেটো দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট মশলার সাথে কষিয়ে নিতে হবে।
মশলার সাথে আলু ও ফুলকপি কষানো হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।



গরম মশলা, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে
ফুলকপি ও আলু সিদ্ধ হওয়ার পর গরম মশলা গুড়ো, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে আরো ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে নিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।



পরিবেশন করার পদ্ধতি
আলু, ফুলকপির এই তরকারি তৈরি করার পর একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। তারপর রুটি, লুচি বা পরোটার সাথে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। রুটি বা লুচির সাথে দারুণ লাগে খেতে। তবে সাদা ভাতের সাথে ও খাওয়া যায়।

ফুলকপির উপকারিতা
ফুলকপির মধ্যে আছে ভিটামিন ‘এ’ যা চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। তাই আমাদের ফুলকপি খাওয়া দরকার। এটিতে আছে প্রচুর ফাইবার যা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’ ‘সি’ ও ‘কে’ যা সর্দি, কাসি, জ্বর ইত্যাদি হওয়া থেকে দূরে রাখে।
উপসংহার
ফুলকপি যারা খেতে ভালোবাসেন তাদের জন্য দারুণ একটি রেসিপি। এই তরকারি দিয়ে লুচি, পরোটা, রুটি ও ভাতের সাথে পরিবেশন করা যায়। অথিতি আপ্যায়নে বা নিজেদের খাওয়ার জন্য অতি সহজেই এই সুস্বাদু পদটি তৈরি করে ফেলতে পারেন।
ফুলকপি আলু ও মটরশুটির তরকারি
শীতকালে প্রচুর পরিমানে শাক, সব্জি বাজারে পাওয়া যায় তার মধ্যে যেমন ফুলকপি, নতুন আলু, মটরশুটি ইত্যাদি। তাই শীতকালের তাজা সব্জি দিয়ে তরকারি বানিয়ে খাওয়ার মজাই আলাদা। ফুলকপি কিছু কিছু জায়গায় সারাবছর পাওয়া যায় তবে শীতকালের মত স্বাদ হয় না। ফুলকপি, আলু ও মটরশুটির ঘন ঘন তরকারি লুচি, পরটা, রুটি ও ভাতের সাথে দারুণ লাগে খেতে।
Ingredients
- ফুলকপি - ১ টি (মধ্যম আকারের)
- আলু - ২ টি (মধ্যম আকারের)
- মটরশুটি - ১/২ কাপ
- টমেটো - ১ টি
- পিঁয়াজ - ১ টি
- আদা বাটা - ১/২ চামচ
- রসুন বাটা - ১/২ চামচ
- চারমগজ বাটা - ২ চামচ
- টমেটো বাটা - ১/২ টি
- কাঁচা লঙ্কা - ৪-৫ টি
- ধনেপাতা কুচি - ১ মুঠো
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/২ চামচ
- ধনে গুড়ো - ১ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১ চামচ
- নুন - স্বাদমত
- সর্ষের তেল - পরিমানমত
- আস্ত জিরে - ১ চামচ (ফোঁড়নের জন্য)
- গরম জল - পরিমানমত
Instructions
- প্রথমে ফুলকপির ফুলগুলো মধ্যম আকার করে কেটে নিতে হবে। এরপর চুলায় একটি কড়াই বসিয়ে তার মধ্যে জল, নুন ও ফুলকপি দেওয়ার পর জল ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। ফুলকপির টুকরো গুলোকে ঝাঝরির মধ্যে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
- আলু, পিঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে টমেটো, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা সবগুলো ধুয়ে কেটে নিতে হবে। তারপর আদা, কাঁচা লঙ্কা, রসুন, টমেটো ও চারমগজ বেটে একটি পাত্রের নিয়ে নিতে হবে। মটরশুটি ধুয়ে একটি ছোট পাত্রে নিয়ে নিতে হবে।
- তারপর হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, নুন, আস্ত জিরে ফোঁড়নের জন্য নিয়ে নিতে হবে।
- তারপর গ্যাস চুলা জালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিত হবে। এরপর সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর কেটে ধুয়ে রাখা আলু ও অল্প নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
- আলু ভাজা হওয়ার পর একটি পাত্রের তুলে রাখতে হবে। ঐ তেলের মধ্যে ফুল ও অল্প নুন দিয়ে ভালোকরে ভেজে নিতে হবে। কম আঁচে ফুলকপি ভাজতে হবে।
- ফুলকপি ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রের মধ্যে তুলে নিয়ে ঐ একই কড়াইতে আবার ও সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর জিরে ফোঁড়ন দিতে হবে। জিরে লাল হয়ে আসার পর পিঁয়াজ কুচি দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
- পিঁয়াজ লাল করে ভাজার পর আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে। চুলার আঁচ কমিয়ে পিঁয়াজ, আদা ও রসুন ভাজা করতে হবে।
- আদা ও রসুন বাটা দিয়ে ভালোকরে ভাজার পর টমেটো বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে। টমেটো বাটা দেওয়ার পর নাড়াতে হবে ভালোকরে।
- তারপর পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, স্বাদমত নুন ও অল্প গরম জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
- মশলার কষানো হয়ে গেলে চারমগজ বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে ভালোকরে নেড়ে কষিয়ে নিতে হবে। তারপর মটরশুটি দিয়ে একটু সময় কষিয়ে নিতে হবে।
- তারপর এক কাপ গরম জল দিয়ে ভেজে রাখা ফুলকপি, আলু ও টুকরো করে রাখা টমেটো দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট মশলার সাথে কষিয়ে নিতে হবে।
- মশলার সাথে আলু ও ফুলকপি কষানো হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- ফুলকপি ও আলু সিদ্ধ হওয়ার পর গরম মশলা গুড়ো, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে আরো ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- মটরশুটি দিয়ে ফুলকপি ও আলুর তরকারি তৈরি হয়ে গেলে চুলা করে একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।
