রুটি বানানো ও সংরক্ষণ করার পদ্ধতি | Roti Making And Storing
রুটি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো তবে অনেকের কাছে রুটি বানানোটা ঝামেলা মনে হয়। তবে যাদের সবসময় রুটি বানানোর অভ্যেস আছে তাদের কাছে ঝামেলার মনে হয় না। রুটি যে আটা আটা দিয়ে বানানো হয় সেই আটার মধ্যে প্রচুর পুষ্ঠিকর উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। রুটি যে কোন একটি পদ দিয়ে খাওয়া যায়, অনেক গুলো পদের দরকার হয় না।
আমার রুটি খেতে ভালো লাগে কিন্ত বানাতে একদমই ভালো লাগে না। রুটি খাওয়ার ইচ্ছে করলে বানানোর ঝামেলার জন্য আর খাওয়া হত না। বিয়ের আগে হঠাত কোন সময় রুটি খাওয়ার ইচ্ছে করলে তখন বানিয়ে খেতাম। আমার স্বামী রুটি খেতে এতো পছন্দ করে তাই আমাকে সব সময় রুটি বানাতে হয়।
এখনকার কর্মব্যস্ত জীবনে অনেকের দ্বারা রোজ রুটি বানানো সম্ভব হয় উঠে না। একসাথে অনেক গুলো রুটি বানিয়ে রেখে দিলে রোজকার ঝামেলা থেকে বাঁচা যায়। অনেকে আবার রুটি নরম ও ভালো থাকার জন্য তেল ও দুধ ব্যবহার করে থাকেন। তবে রোজকার রুটির মধ্যে দুধ ও তেল ব্যবহার না করে ও কিভাবে নরম রুটি বানানো যায় নিচের এই পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে বানালে একদম নরম ও ফুলকো রুটি বানানো যাবে। রুটির সাথে খাওয়ার জন্য কিছু সুস্বাদু খাবার শেয়ার করা আছে সেগুলি হল পনির বাটার মসালা, কেপ্সিকাম পনির, শাহী পনির, আলু মটরের সব্জি, রাজমা মসালা, মিষ্টির দোকানের মত আলু মটরের তরকারি ইত্যাদি দেখে নিতে পারেন।
রুটি বানানোর জন্য লাগবে আটা, নুন, গরম জল। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
গরম জল করে নিতে হবে আটার মণ্ড বানানোর জন্য
প্রথমে চুলা জ্বালিয়ে অর্ধেক কেটলি জল বসিয়ে দিতে গরম হওয়ার জন্য। যখন জল ফুটে উঠবে তখন চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।
এখানে আমি ফুটন্ত জল ব্যবহার করেছি ফলে রুটি গুলো নরম হবে। আর কোন ধরনের তেলের বা ঘি ব্যবহার করিনি এই রুটি বানানোর জন্য।

একটি পাত্রে আটা নিয়ে নুন মিশিয়ে নিতে হবে
তারপর পরিমানমত আটা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। এরপর আটার মধ্যে সামান্য নুন দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে।
এই সময় তেল বা ঘি মেশানো হয় আটার মধ্যে তবে এখানে তেল বা ঘি মেশানোর প্রয়োজন হবে না।

এবারে আটার মধ্যে গরম জল দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে
এরপর আটার মধ্যে অল্প গরম জল দিয়ে একটি চামচের সাহায্যে মিশিয়ে নিতে হবে। এইরকম অল্প অল্প গরম জল ৩ থকে ৪বার আটার মধ্যে দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। গরম জল মেশানোর সময় বোঝা যাবে যে এবার মণ্ডটা বানিয়ে নিতে হবে।
আটা মাখার সময় হালকা গরম দুধ ব্যবহার করা হয় তাহলে ও রুটি নরম ও ভালো থাকবে। কোথাও ঘুরতে যাওয়ার সময় রুটি নিতে চাইলে এই টিপস কাজে লাগবে।
যেহেতু এখানে গরম জল দিয়ে আটা মাখা হয়েছে আটাকে একটু শুকনো রাখতে হবে।


১০ মিনিটের জন্য আটাকে ঢেকে রেখে দিতে হবে
যেহেতু আটার মধ্যে ফুটন্ত গরম জল ব্যবহার করা হয়েছে তাই সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে মেখে নেওয়া যাবে না ফলে ১০ মিনিটের জন্য ঢেকে ফ্যানের নিচে রেখে দিতে হবে। এইভাবে ঢেকে ঠান্ডা হতে দিলে আটার গরম জল ভালোভাবে ঢুকবে।


এবারে আটা মেখে মণ্ড বানিয়ে নিতে হবে
আটা ঠান্ডা হওয়ার পর ভালো কে চেপে চেপে মাখিয়ে নিতে হবে। আটার মণ্ডটা একটু নরম করে বানাতে হবে। আটা মেখে নেওয়ার পর এর উপর সামান্য জল লাগিয়ে ঢেকে এক ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে (আটার মণ্ডটি এভাবে না রেখে ভেজা সুতি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যায়)। আটার মণ্ডের উপর ভেজা সুতি কাপড় বা জল লাগিয়ে রাখলে মণ্ডের উপরের অংশ শক্ত হয়ে যাবে না। যদি ২ থেকে ৩ ঘণ্টার জন্য আটা মেখে রাখা যায় তাহলে আরো ভালো।




এক ঘণ্টা পর গোল গোল করে লেচি বানিয়ে নিতে হবে
আটার লেচি বানানোর আগে আরেকটু সময় আটাকে ডলে নিতে হবে। তারপর ছোট আকারের গোল গোল করে লেচি বানিয়ে নিতে হবে। লেচি বানানো হয়ে গেলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে বা ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে।




এবারে ঐ লেচি গুলো থেকে একটি লেচি নিয়ে বেলে নিতে হবে
রুটি বানানোর জন্য একটি লেচি নিয়ে তার উপর শুকনো আটা দিয়ে বেলে নিতে হবে। রুটি বেলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে রুটি পাতলা হয় আর রুটির সবদিক সমান করে বেলতে হবে। বেলার সময় রুটির একদিক ভারি আরেক দিক পাতলা হলে রুটি ভালোভাবে ফুলবে না।
রুটির সেকার সময় একটা লেচি নিয়ে বেলে সেকার সময় আরেকটি লেচি বেলে নিতে হবে।তবে এখানে সবগুলো লেচি বেলা হয়ে যাওয়ার পর যদি কিছু সময় রেখে দিয়ে তারপর সেকা শুরু করলে রুটি গুলো ভালোভাবে ফুলবে না। তাই এক একটা রুটি সঙ্গে সঙ্গে বেলে সেকে নিতে হবে।



চুলায় তাওয়া বসিয়ে বেলে রাখা রুটি দিয়ে দিতে হবে
চুলা জ্বালিয়ে তাওয়া বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। চুলার (গ্যাস) আঁচ মধ্যম রাখতে হবে। তাওয়া বসিয়ে সঙ্গে সঙ্গে রুটি সেকতে দিয়ে দিলে হবে না, তাওয়া একটু গরম হওয়ার পর রুটি দিতে হবে। তারপর যখন রুটির মধ্যে ছোট ছোট বাদামী রঙের ছোপ হতে শুরু করবে ঠিক তখনই রুটি উল্টে দিতে হবে।


রুটি উল্টে দেওয়ার পর কত সময় সেকতে হবে
রুটির একদিক অল্প সেকার পর অন্য দিক উল্টে দিয়ে কয়েক সেকেন্ড রাখলেই বাদামী রঙের ছোট ছোট ছোপ হতে শুরু করবে আর ঠিক তখনই একটি চিম্টের সাহায্য রুটিকে চুলার আঁচের মধ্যে রাখতে হবে।



চুলার আঁচে রুটি ফুলে উঠার পর কত সময় রাখতে হবে
রুটি একটি চিম্টের সাহায্যে চুলার আঁচের মধ্যে রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ফুলতে শুরু করবে, রুটি পুরোটা ফুলে যাওয়ার পর চিম্টে দিয়ে এপাশ ওপাশ অল্প (২-৩ সেকেন্ড) সেকে নামিয়ে নিতে হবে।রুটি সেকে একটি হটপটের মধ্যে একটি সুতি কাপড় দিয়ে রাখতে হবে বা ছবিতে দেওয়া এই রকম কাপড় রুটি রাখার জন্য বাজারে কিনতে পাওয়া যায় তা দিয়ে ও রুটি রাখা যায়।
সেকা রুটি রাখার আগে পাত্রের মধ্যে একটি সুতি কাপড় রেখে তার উপর রুটি রাখতে হবে।এভাবে না রাখলে পুরো হটপট ঘেমে রুটির মধ্যে জল ঢুকে যায় এরজন্য রুটি খেতে ভালো লাগে না। হটপটের মধ্যে টিসু পেপার দিয়ে ও রুটি রাখলে ঘেমে যাবে না।
রুটি সব সেকার পর হটপটের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে।





পরিবেশন করার পদ্ধতি
রুটি সবসময় গরম গরম পরিবেশন করতে হয়।
রুটির সাথে যেমন ডাল, সব্জি, ঘুগনি, আলু ভাজা, ডিমের ভুর্জি, মাংস আরো অনেক কিছু দিয়ে পরিবেশন করা যায়। রুটি ও সব্জির সাথে কাঁচা পেঁয়াজ ও লেবু দেওয়া হয়।
রুটি সংরক্ষণ করার পদ্ধতি
রুটি সংরক্ষণ করার জন্য হটপটের মধ্যে রাখা রুটি গুলোকে ঠান্ডা করে নিতে হবে। তারপর একটি গোল প্লাস্টিকের বা স্টিলের পাত্রের মধ্যে রুটি গুলো রেখে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে নরমাল ফ্রিজে রেকে দিতে হবে। এভাবে রুটি ৪ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত রাখা যায়।



সংরক্ষণ করা রুটি খাওয়ার আধ ঘণ্টা আগে বের করে রেখে খাওয়ার সময় চুলায় মধ্যম আঁচে তাওয়াতে দিয়ে গরম করে নিলেই হবে (১৫ সেকেন্ড থেকে ১/২ মিনিট)।
আর মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করতে হলে রুটি গুলো মাইক্রোওয়েভ প্রমাণ পাত্রে নিয়ে ওভেনের মধ্যে রেখে দরজা বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর মাইক্রো হাই পাওয়ারে ৩০ সেকেন্ড সময় দিয়ে গরম করে নিলেই হবে। তবে বেশি রুটি গরম করতে হলে হাই পাওয়ারে ১ মিনিট সময় দিয়ে গরম করে নিতে হবে।
সংরক্ষণ করার জন্য যখন রুটি বানানো হবে তখন রুটি সেকার সময় রুটি ফুলে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই নামিয়ে নিতে হবে। রুটি বেশি সেকে সংরক্ষণ করলে শক্ত হয়ে যাবে। আর রুটি খাওয়ার সময় বানানো হলে ভালো করে সেকে নিতে হবে।
আমার তাওয়াতে গরম করা রুটি বেশি ভালো লাগে খেতে মাইক্রোওয়েভে গরম করা রুটির তুলনায়।


রুটির উপকারিতা
রুটির উপকারিতা বলতে এখানে আটার রুটির কথা বলা হয়েছে। আটা দিয়ে রুটি বানিয়ে খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে তাহলে যেনে নেওয়া যাক সেগুলো কি কি। রুটিতে খুব কম পরিমানে ক্যালোরি থাকে তাই শরীরের ওজন বাড়ে না রুটি খেলে।
ডায়বেটিস রোগীদের জন্য রুটি খাওয়া খুবই উপকারি কারণ রুটিতে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স নামক উপাদান কম থাকায় রক্তে সুগারের মাত্রা বাড়তে দেয় না। যেহেতু রুটিতে ফ্যাট থাকে না তাই রুটি খেয়ে শরীরের চর্বি কম করা সম্ভব। থাক্স ফাইবার রুটিতে থাকে যা শরীরের হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। রুটিতে ভিটামিন ও খনিজ থাকার ফলে রুটি শরীরের জন্য খুবই উপকারি।
উপসংহার
রুটি খাওয়া আমাদের শরীরের পক্ষে ভালো, পেট ভরে ও শরীরকে হালকা রাখে। রুটি যে আটা আটা দিয়ে বানানো হয় সেই আটার মধ্যে প্রচুর পুষ্ঠিকর উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। এরজন্য আমাদের প্রতিদিনের খাবারে রুটি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রুটি বানানো ও সংরক্ষণ করার পদ্ধতি
রুটি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য ভালো তবে অনেকের কাছে রুটি বানানো ঝামেলা মনে হয়। তবে যাদের সবসময় রুটি বানানোর অভ্যেস আছে তাদের কাছে ঝামেলার মনে হয় না। রুটি যে আটা আটা দিয়ে বানানো হয় সেই আটার মধ্যে প্রচুর পুষ্ঠিকর উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। রুটি যে কোন একটি পদ দিয়ে খাওয়া যায়, অনেক গুলো পদের দরকার হয় না।
Ingredients
- আটা - ৩ কাপ
- নুন - ১/২ চামচ
- গরম জল - পরিমানমত
Instructions
- প্রথমে চুলা জ্বালিয়ে ৩ গ্লাস জল কেটলিতে দিয়ে গরম করার জন্য বসিয়ে নিতে হবে। এখানে জল ফুটিয়ে নিতে হবে।
- তারপর পরিমানমত আটা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। তারপর অল্প নুন ভালোকরে মিশিয়ে দিতে হবে আটার মধ্যে।
- এরপর অল্প গরম জল আটার মধ্যে দিয়ে একটি চামচের সাহায্যে মিশিয়ে নিতে হবে। এইভাবে তিন/চার বার অল্প অল্প গরম জল আটার মধ্যে দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।
- গরম জল মেশানোর পর আটার পাত্রটি ঢেকে ফ্যানের নিচে বা অমনি ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।
- তারপর আটা একটু ঠান্ডা হওয়ার পর ভালোকরে মেখে একটি মণ্ড বানিয়ে নিতে হবে। আটার মণ্ডের উপর সামান্য লাগিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে।
- এবারে আটার মণ্ডটিকে আবার ও অল্প সময় মেখে ছোট করে গোল আকারের লেচি বানিয়ে নিতে হবে। সব লেচি বানানো হয়ে গেলে ঢেকে রাখতে হবে।
- তারপর একটি লেচি নিয়ে গোল করে বেলে নিতে হবে। রুটি বেলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যাতে রুটি পাতলা আর সব দিক সমান থাকে।
- চুলার তাওয়া বসিয়ে গরম করে নিতে হবে মধ্যম আঁচে। তারপর বেলে রাখা রুটি তাওয়াতে দিয়ে দিতে হবে। যখন রুটির সবদিক অল্প অল্প ফুলতে শুরু করবে তখনই রুটিকে উল্টে দিতে হবে।
- রুটি উল্টে দেওয়ার পর যখন ফুলতে শুরু করবে তখন একটি চিম্টের সাহায্যে চুলার আঁচের মধ্যে রেখে উল্টে পাল্টে সেকে নিতে হবে।
- যখন রুটি সেকার জন্য চুলার আঁচে বসানো হবে তখনই রুটি ফুলে উঠবে আর রুটি ফুলে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে নিতে হবে। রুটি নামিয়ে একটি পাত্রের ( হটপট) মধ্যে রাখতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: A small chapatiAmount Per Serving: Calories: 70 Calories
