সুস্বাদু পোহা ১০ মিনিটে কিভাবে বানাবেন | How To Prepare Tasty Poha in 10 Minutes
পোহা হল প্রাতরাশের(সকালের) একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে এই পোহা শুধু সকালে (ব্রেকফাস্টে) নয় বিকেলের জল খাবারে ও বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সুস্বাদু পুষ্ঠিকর পোহা খেলে অনেকক্ষন ধরে পেট ভর্তি থাকে। মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতে পোহা খুবই পরিচিত একটি খাবার। তবে বাঙালীদের ঘরে চিড়ের পোলাও বেশিরভাগ সময় তৈরি হয়ে থাকে।
আমি মুম্বইতে আসার পর কোথাও যখন ঘুরতে যেতাম তখন আমার স্বামী সকালের খাবারে পোহা অর্ডার দিত। প্রথম যেদিন পোহা খেলাম সেদিন আমার স্বামী আমাকে বলল এবার থেকে ঘরে বানাবে পোহা। আমি পোহা খেয়ে এর স্বাদ বুঝলাম আর দেখলাম কি কি দেওয়া ছিল পোহার মধ্যে। আমার তো বেশ ভালোই লাগল পোহা খেতে। সেই সময় আমার মনে হয়েছিল যে সকালের খাবারে (Breakfast) আরেকটি নতুন পদটি (রেসিপি) মাঝেমধ্যে বানানো যেতেই পারে। পোহা ছাড়া আরো কিছু ব্রেকফাস্টের আইটেম শেয়ার করা আছে সেগুলি হল সুজির উপমা, সিমুইয়ের উপমা, সুজির ইডলি, লুচি আলুর দম, মুলোর পরোটা, ছোলার ডাল, এইগুলোর রেসিপি দেখে বানাতে পারেন।
তারপর থেকে ঘরেই পোহা বানিয়ে খাওয়া হয় বাইরে আর খাওয়া হয় না। তবে আমাদের ঘরের সবাই ঘরের তৈরি পোহা খেতে বেশি ভালোবাসেন। পোহাতে বিভিন্ন ধরনের সব্জি ব্যবহার করা যেতে পারে যেমন আলু, গাজর, ফুলকপি, মটরশুটি ইত্যাদি। বিভিন্ন জায়গায় আমি পোহা খেয়েছি তবে যা মনে হল তা সব জায়গার পোহা পরিবেশন করার পদ্ধতি একটু আলাদা।
পোহা খেয়ে আমার আরেকটি জিনিস মনে হল টক, ঝাল, নুন, মিস্টি এগুলোর পরিমান সঠিক হতে হবে আর কারিপাতা দিতে হবে। ধনেপাতা ছাড়া পোহা খাওয়া যায় তবে কারিপাতা ছাড়া ভালো লাগবে না। পোহাতে সাধারণত: চিনে বাদাম ভেজে দেওয়া হয়ে থাকে। কোন একদিন পোহা বানাতে গিয়ে আমার মনে হল চানাচুরের মধ্যেও তো চিনে বাদাম থাকে তাহলে দিয়ে দেখি, দেখলাম বেশ ভালোই লাগে খেতে।
এরপর থেকে আমি পোহা বানানোর সময় আলাদা করে আর চিনে বাদাম ব্যবহার করি না। এই সুস্বাদু পোহা ছোট, বড় সবাই খেতে পারে। ছোটদের জন্য বানানো হলে কাঁচা লঙ্কা বুঝে ব্যবহার করতে হবে।
পোহা বানানোর জন্য লাগবে পোহা (মোটা চিড়ে), পিঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, কারিপাতা। কালো সর্ষে, সাদাতেল, নুন, চিনি, লেবুর রস, হলুদ গুড়ো, পিঁয়াজ কুচি, লঙ্কা কুচি, টমেটো কুচি, ধনেপাতা কুচি, চানাচুর, লেবু। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
প্রথমে চিড়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখতে হবে
চিড়ে পরিমানমত একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে ৩ থেকে ৪ বার জল দিয়ে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ধোয়া চিড়ে একটি ঝাঝরিতে নিয়ে নিতে হবে জল ঝরানোর জন্য। এই অবস্থায় ৫ থেকে ৭ রাখলেই চিড়েগুলো ফুলে উঠবে।
পোহা বানানোর জন্য সবসময় মোটা চিড়ে দিয়ে বানাতে হবে কারণ পাতলা চিড়ে দিয়ে বানাতে গেলে পোহা ঝরঝরে হয় না। পাতলা চিড়ে ধুয়ার সময়ই দলা পাকিয়ে যায়।


পোহা বানানোর জন্য উপকরণ গুলি তৈরি করে নিতে হবে
তারপর পিঁয়াজ স্লাইস করে কেটে, লঙ্কা কুচি করে, কারিপাতা ধুয়ে, সাদা তেল, কালো সর্ষে (বড়ো দানা), নুন, চিনি, হলুদ গুড়ো পরিমান মত নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রের মধ্যে।
চিনি ব্যবহার করা হয়েছে পোহা বানানোর জন্য সেই জায়গায় সুগার ফ্রি গুড়ো (Sugar free powder) ব্যবহার করা যেতে পারে। পোহা বানানোর সময় ফোঁড়নে কালো সর্ষের সঙ্গে সাদা জিরে ও ব্যবহার করা যায়।


পোহা সাজানোর জন্য যে উপকরণ লাগবে
পোহা সাজানোর জন্য পিঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি, লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি, চানাচুর, লেবু টুকরো করে নিয়ে নিতে হবে আরেকটি পাত্রের মধ্যে। এইসব উপকরণ দিয়ে পোহা সাজিয়ে দিলে খেতে দারুণ লাগে।
আমি চানাচুর ব্যবহার করেছি পোহার মধ্যে এর জায়গায় চিনে বাদাম ভেজে ব্যবহার করা যায়।আর চানাচুরের বাদাম থাকার জন্য পোহাতে ব্যবহার করেছি।

তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে পিঁয়াজ ডেজে নিতে হবে
তারপর চুলায় কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর পরিমানমত রিফাইন্ড তেল কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর কালো সর্ষে দিয়ে দিতে হবে। সর্ষে চড়চড় করে ফুটার পর পিঁয়াজ কুচি, কারিপাতা ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নেড়ে আধা মিনিট ভেজে নিতে হবে।




পিঁয়াজ ভাজার পর জল ঝরিয়ে রাখা চিড়ে দিয়ে দিতে হবে
আধা মিনিট পিঁয়াজ ভাজার পর সামান্য নুন দিয়ে নেড়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে। পিঁয়াজ গুলো হালকা লাল হয়ে আসলে ভিজিয়ে রাখা চিড়ে দিয়ে তার মধ্যে স্বাদমত নুন, হলুদ গুড়ো ও চিনি দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে।
সব উপকরণ মেশানোর পর যদি মনে হয় চিড়ে বেশি শুকনো লাগছে দেখতে তখন সামান্য জল উপর থেকে ছিটিয়ে দিয়ে দিতে হবে।








সব উপকরণ মেশানো হয়ে গেলে ঢাকনা দিয়ে রান্না করতে হবে
সব উপকরণ গুলো মেশানোর পর ৩ থেকে ৪ ঢেকে দিতে হবে। এই সময় চুলার আঁচ একদম কম রাখতে হবে। তারপর ঢাকনা খুলে একবার নেড়ে দেওয়ার পর তারমধ্যে লেবুর রস ও অল্প ধনেপাতা কুচি দিয়ে নেড়ে আধ মিনিটের মত রেখে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিতে।
পোহাতে লেবুর রস দিয়ে বেশি সময় রাখা যাবে না, লেবুর রস দিয়ে বেশি রাখলে পোহা তেতো হয়ে যেতে পারে তাই পোহা নামানোর আগে লেবুর রস ভালোকরে নেড়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।





পোহা পরিবেশন করার পদ্ধতি
একটি প্লেটের মধ্যে গরম গরম পোহা নিয়ে তার উপর পিঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি, চানাচুর, ধনেপাতা কুচি ও একটি লেবুর টুকরো পোহার উপরে রেখে সুন্দর করে সাজিয়ে তার সঙ্গে একটি চামচ দিয়ে পরিবেশন করুন। এইভাবে অথিতিদের বা ঘরের সদস্যদের খাওয়ান।






পোহা খাওয়ার উপকারিতা
পোহার মধ্যে অনেক পুষ্ঠিগুন আছে যা আমাদের মধ্যে অনেকেরই জানা নেই তাহলে যেনে নেওয়া যাক। পোহাতে ভিটামিন ও মিনারেল রয়েছে যা আমাদের শরীরের ভিটামিন ও মিনারেলর চাহিদা মেটায়। সঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, উপকারী ফ্যাট এবং প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। পোহা খেলে আয়রন, পটাসিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও ডি এর অভাব পূরণ করে।
উপসংহার
পোহা হল প্রাতরাশের(সকালের) একটি সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে এই পোহা শুধু সকালে (ব্রেকফাস্টে) নয় বিকেলের জল খাবারে ও বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এই সুস্বাদু পোহা খেলে অনেকক্ষন ধরে পেট ভর্তি থাকে। মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতে পোহা খুবই পরিচিত একটি খাবার। পোহা বানিয়ে এক দুদিন রেখেও খাওয়া যায় তবে কাঁচা পেঁয়াজ, টমেটো, চানাচুর ও ধনেপাতা না মিশিয়ে রাখতে হবে। এই সুস্বাদু পোহা ছোট, বড় সবাই খেতে পারে।
সুস্বাদু পোহা ১০ মিনিটে কিভাবে বানাবেন
মহারাষ্ট্র এবং দক্ষিণ ভারতে পোহা খুবই পরিচিত একটি খাবার হলেও বাঙালীদের কাছে খুব একটা জনপ্রিয় নয়। বাঙালিরা চিড়ের পোলাও খেতে বেশি ভালোবাসেন। আমি প্রথম মুম্বইতে আসার পর যখন আমারা দুজনে কোথাও ঘুরতে যেতাম তখন আমার স্বামী সব সময় সকালের খাবারে পোহা অর্ডার দিত।
আমার জন্য তো প্রথম ছিল পোহা খাওয়া। সেই সময় আমার স্বামী আমাকে বলল এই পোহা খেয়ে দেখ আর কিভাবে বানানো হয়েছে দেখ। আমি খেয়ে দেখলাম আমার তো বেশ ভালোই লাগল তখন আমার স্বামী আমাকে বলল এইবার থেকে ঘরে বানাবে। সেই সময় থেকে আমাদের ঘরে মাঝে মধ্যে আমি পোহা বানিয়ে থাকি।
Ingredients
- পোহা (মোটা চিড়ে) - ১, ১/২ কাপ
- পিঁয়াজ - ১, ১/২ টি
- কাঁচা লঙ্কা - ২ টি
- কারিপাতা - ১০-১৫ টি
- কালো সর্ষে - ১ চামচ
- সাদাতেল - পরিমানমত
- নুন - স্বাদমত
- চিনি - ২ চামচ
- লেবুর রস - ১ চামচ
- হলুদ গুড়ো - ১/৪ চামচ
- সাজানোর জন্য লাগবে:
- পিঁয়াজ কুচি - ১/২ টি
- লঙ্কা কুচি - ১ টি
- টমেটো কুচি - ১টি (ছোট আকারের)
- ধনেপাতা কুচি - ১ মুঠো
- চানাচুর - আধ কাপ
- লেবু - ১ টি (টুকরো করা)
Instructions
- প্রথমে দেড় কাপ চিড়ে একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে ৩ থেকে ৪ বার জল দিয়ে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ধোয়া চিড়ে একটি ঝাঝরিতে নিয়ে নিতে হবে জল ঝরানোর জন্য। এই অবস্থায় ৫ থেকে ৭ রাখলেই চিড়েগুলো ফুলে উঠবে।
- তারপর পিঁয়াজ স্লাইস করে কেটে, লঙ্কা কুচি করে, কারিপাতা ধুয়ে, সাদা তেল, কালো সর্ষে (বড়ো দানা), নুন, চিনি, হলুদ গুড়ো পরিমান মত নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রের মধ্যে।
- সাজানোর জন্য পিঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি, লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি, চানাচুর, লেবু টুকরো করে নিয়ে নিতে হবে আরেকটি পাত্রের মধ্যে।
- তারপর চুলায় কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর পরিমানমত রিফাইন্ড তেল কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর কালো সর্ষে দিয়ে দিতে হবে। সর্ষে চড়চড় করে ফুটার পর পিঁয়াজ কুচি, কারিপাতা ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নেড়ে আধা মিনিট ভেজে নিতে হবে।
- আধা মিনিট পিঁয়াজ ভাজার পর সামান্য নুন দিয়ে নেড়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে। পিঁয়াজ গুলো হালকা লাল হয়ে আসলে ভিজিয়ে রাখা চিড়ে দিয়ে তার মধ্যে স্বাদমত নুন, হলুদ গুড়ো ও চিনি দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে।
- সব উপকরণ গুলো মেশানোর পর ৩ থেকে ৪ ঢেকে দিতে হবে। এই সময় চুলার আঁচ একদম কম রাখতে হবে। তারপর ঢাকনা খুলে একবার নেড়ে দেওয়ার পর তারমধ্যে লেবুর রস ও অল্প ধনেপাতা কুচি দিয়ে নেড়ে আধ মিনিটের মত রেখে চুলার আঁচ বন্ধ করে দিতে।
- তারপর একটি প্লেটের মধ্যে গরম গরম পোহা নিয়ে তার উপর পিঁয়াজ কুচি, টমেটো কুচি, চানাচুর, ধনেপাতা কুচি ও একটি লেবুর টুকরো সুন্দর করে সাজিয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।
Nutrition Information:
Serving Size: 1 plate kanda pohaAmount Per Serving: Calories: 180
