এঁচোড় এর সুস্বাদু রেসিপি | How to make tasty Echor
খাবারের যে এতো ধরন আছে তা গুনে শেষ করা যাবে না। একটা জিনিসকে যে আমরা কত ভাবে খেতে পারি তার মধ্যে একটি হল কাঠাল। এই কাঠালকে কচি অবস্থায় বলে এচোড় আর পেকে গেলে বলে কাঠাল।
এই কাঠালের বিচি দিয়ে অনেক রকমের পদ রান্না করা হয়ে থাকে। এবার আসি এচোড়ের কথায়, এটি দিয়ে নানা ধরনের নিরামিষ ও আমিষ পদ রান্না হয়ে থাকে। এঁচোড়ের সুস্বাদু পদের কথা অনেকের মুখে শুনতাম কারণ আমার মার এচোড় খাওয়ার প্রতি কোন সখ ছিল না তাই আমাদের ঘরে এচোড় আনা হত না।
কিন্ত আমার ইচ্ছে ছিল খেয়ে দেখার যে এর স্বাদ কিরকম। আমার এক আত্মীয়ের মুখে শুনলাম এচোড় তো মাংসের মত রান্না করতে হয়। এই কথাটা আমার মনে ছিল আর ভেবেছিলাম একদিন রান্না করে দেখবো কিরকম লাগে খেতে। অনেক দিন বাজার যাই কিন্ত মনেই থাকে না যে এচোড় নিয়ে গিয়ে রান্না করে দেখবো।
হটাৎ একদিন বাজারে একটি এচোড়ের টুকরো আমার চোখে পড়ল আর মনে মনে ভাবলাম আজ এই এচোড়ের টুকরো নিয়ে গিয়ে রান্না করে দেখবো। তারপর অন্যান্য সব্জির সঙ্গে এচোড় ও কিনে নিয়ে আসলাম। এরপর রান্না করে খেয়ে দেখলাম বেশ ভালোই লাগল। এঁচোড়ের তরকারি তরকারি খাওয়ার সময় আমার মনে হল কথাটা আমি ভুল শুনিনি যে এঁচোড়ের তরকারি খেতে খুব ভালো। এটি তৈরী করার পদ্ধতি ও উপকরণ নিচে ধাপে ধাপে বলে দেওয়া হয়েছে। এঁচোড়ের তরকারি ছাড়া কাঁকরোল পুর, পটলের দোরমা, নিরামিষ বাঁধাকপির রেসিপি শেয়ার করা আছে দেখে নিতে পারেন।
এঁচোড় রান্না করার জন্য লাগবে এঁচোড়, আলু, টমেটো, পিঁয়াজ, আদা বাটা, রসুন বাটা, কাচা লঙ্কা বাটা, আস্ত কাঁচা লঙ্কা, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো (ঘরের তৈরি), নুন, সর্ষের তেল, এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি, তেজপাতা। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
এঁচোড় কেটে নিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে
প্রথমে এঁচোড়ের খোসা ছাড়িয়ে চৌক আকারে কেটে নিতে হবে। খোসা একটু বেশি করে ছাড়াতে হবে। তারপর পরিমানমত জল, নুন ও হলুদ গুড়ো দিয়ে ৫ থেকে ৭ সিদ্ধ করে নিতে হবে। এবারে এচোড় গুলোকে ঝাঝরির মধ্যে নিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। তারপর একটি পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে।
এঁচোড় কাটার সময় হাতে, ছুরিতে বা বটিতে সর্ষের তেল লাগিয়ে নিতে হবে কারণ এচোড়ের মধ্যে আঠালো পদার্থ থাকে। সর্ষের তেল ছুরিতে বা বটিতে লাগিয়ে কাটলে আঠা ছাড়াতে সুবিধে হয়।



এবারে আলু, পিঁয়াজ, টমেটো ও কাঁচা লঙ্কা কেটে নিতে হবে
আলু ও পিঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে এর সঙ্গে টমেটো ও কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে নিতে হবে। এবারে সব সব্জি গুলোকে ছবিতে দেওয়া আকারের মত কেটে নিয়ে একটি পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে। আলুর খোসা ছাড়ানোর পর আলু কেটে সঙ্গে সঙ্গে জলের মধ্যে রাখতে হবে কারণ আলু কেটে জলের ভিজিয়ে না রাখলে কালো হয়ে যায়।

আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা বাটা ও ফোঁড়নের সব উপকরণ নিয়ে নিতে হবে
আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা বেটে নিতে হবে আর ফোঁড়নের সব উপকরণ যেমন এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি ও তেজপাতা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে হবে। এখানে আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা আলাদা আলাদা করে বাটা হয়েছে তবে এইগুলি একসঙ্গে বেটে নিলেও হবে।

এবারে চুলায় কড়াই বসিয়ে আলু গুলোকে ভেজে নিতে হবে
চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে কড়াইকে। কড়াই গরম হওয়ার পর তাতে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর টুকরো করে রাখা আলু গুলোকে নুন ও হলুদ দিয়ে হালকা লাল করে ভেজে নিতে হবে।


আলু ভাজার পর এঁচোড় গুলোকে ভেজে নিতে হবে
আলু ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে নিয়ে ঐ তেলের মধ্যে জল ঝরিয়ে রাখা এচোড় গুলোকে দিয়ে দিতে হবে। এরপর সামান্য নুন ও হলুদ গুড়ো দিয়ে নাড়িয়ে ঢেকে দিতে হবে। কম আঁচে একটু সময় নিয়ে এচোড় গুলোকে ভাজতে হবে। ঘন ঘন নাড়াতে হবে ভাজার সময় যাতে এচোড় কড়াইতে লেগে বা পুড়ে না যায়।



এঁচোড় ভাজার পর কড়াইতে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে পিঁয়াজ কুচি ভেজে নিতে হবে
এঁচোড় ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে মধ্যে নামিয়ে নিয়ে নিতে হবে। তারপর পরিমানমত সর্ষের তেল কড়াইতে দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর তাতে ফোঁড়নের সব উপকরণ দিয়ে দিতে হবে। এরপর ফোঁড়ন গুলি থেকে সুন্দর গন্ধ বেরিয়ে আসতেই পিঁয়াজ কুচি দিয়ে নাড়িয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে। এই ভাজাটা কম আঁচে করতে হবে।


আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে ভেজে নিতে হবে
পিঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে আদা বাটা, রসুন বাটা ও কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে ভেজে নিতে হবে ২ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত। এইসব ভাজার সময় চুলার আঁচ একদম কম করে দিতে হবে আর যদি সময় কম থাকে তাহলে মধ্যম করতে হবে কিন্ত বেশি আঁচে ভাজা করা যাবে না। বেশি আঁচে যে সব্জি ভাজলে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে আর এই পুড়ে যাওয়ার ফলে খাবারের স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়।

এবারে টমেটোর টুকরো গুলো দিয়ে ভেজে নিতে হবে
আদা ও রসুন বাটা ভাজা হয়ে গেলে টমেটোর টুকরো ও সামান্য নুন দিয়ে নেড়ে ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য ঢেকে দিতে হবে। টমেটো দেওয়ার পর ঢেকে রান্না করলে টমেটো তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। এখানে টমেটোর টুকরো ব্যবহার করা হয়েছে এর বদলে টমেটোর পিউরি ব্যবহার করা যেতে পারে।



টমেটো সিদ্ধ হওয়ার পর গুড়ো মশলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
টমেটো ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে গেলে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও অল্প পরিমানে গরম জল দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিতে হবে। যখন মশলা থেকে সব জল শুকিয়ে যাবে আর তেল উপরে উঠে তখন বুঝতে হবে মশলা কষানো হয়ে গেছে। আমি ২-৩ বার অল্প অল্প গরম জল দিয়ে মশলা কষিয়ে রান্না করি কারণ যত ভালোভাবে মশলা কষানো হবে ততো খাবারের স্বাদ বাড়বে।



মশলা কষানোর পর ভেজে রাখা এচোড়, আলু ও পরিমানমত জল দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে
গুড়ো মশলা কষানো হয়ে গেলে ভেজে রাখা আলু, এঁচোড় দিয়ে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে কষিয়ে নিতে হবে কিছুক্ষণ। তারপর পরিমানমত গরম জল ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হবে। এচোড় সিদ্ধ হতে একটু সময় লাগে তাই এখানে ঢেকে দিলে একটু কম সময় লাগবে সিদ্ধ হতে।
এখানে ভাজা আলু দেওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে আলু কোন সময় দিতে হবে। আলু কোন সময় শক্ত আবার কোন সময় নরম ধরনের থাকে, তাই আলু যদি শক্ত ধরনের থাকে তাহলে কষানোর সময় আর নরম ধরনের থাকলে জল দিয়ে ফুটানোর দিতে হবে।
আমি একবার নরম ধরনের আলু কষানোর সময় দিয়ে দিয়েছিলাম তারপর দেখলাম অন্য সব্জি সিদ্ধ হওয়ার আগে আলু সিদ্ধ হয়ে পুরো গলে গেছে। আলু গলে যাওয়ার জন্য পুরো তরকারির স্বাদ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।




নামানোর আগে চেরা কাঁচা লঙ্কা ও গরম মশলা গুড়ো দিয়ে দিতে হবে
দশ মিনিট পরিমানমত গরম মশলা গুড়ো ও চিরে রাখা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে আরে ১ থেকে ২ মিনিট ফুটানোর পর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। তারপর একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।

পরিবেশন করার পদ্ধতি
এঁচোড়ের তরকারি রান্না করার পর একটি পাত্রের মধ্যে নিতে হবে। এরপর গরম ভাতের সাথে এই পদটি গরম গরম পরিবেশন করুন।
এটি আমি রুটি দিয়ে ও খেয়েছি, ভালো লাগে খেতে। মাংসের তরকারির মত লাগে খেতে এই এচোড়ের পদটি।

এঁচোড়ের উপকারিতা
আমারা যে শাক, সব্জি খাই সেগুলির মধ্যে অনেক গুণাগুন রয়েছে তা সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। এবার জানা জাক এচোড়ের কিছু গুনের কথা। এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। এচোড়ের মধ্যে আছে সোডিয়াম ও পটাসিয়াম যা শরীরের উচ্চরক্তচাপ ও হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও রেটিনার ক্ষতি রোধ করতে সাহায্য করে।
উপসংহার
এঁচোড় রান্না করা এত কঠিন কিছু নয়। শুধু এচোড় কাটার পদ্ধতি জানা থাকলে অসুবিধে নেই। এটি রান্না করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে ছবি সহ বলে দেওয়া হয়েছে এই ব্লগে। এই পদ্ধতি অনুযাযী করলে খুব সহজেই বানিয়ে ফেলেতে পারেন এচোড়ের রেসিপি।
এচোড়ের সুস্বাদু রেসিপি
এচোড়ের নানা ধরনের নিরামিষ ও আমিষ পদ রান্না করা যায়। সারা বছর এটি পাওয়া যায় না। এচোড় খাওয়ার স্বাদ অনেকটা নির্ভর করে কিভাবে রান্না করা হয়েছে তার উপর। ভালোকরে মশলা কষিয়ে রান্না করলে দারুণ লাগে খেতে। ঘরে অথিতি আসলে এই ভাবে রান্না করে খাওয়াতে পারেন। এচোড় শুধু ভাত না রুটি খাওয়া যেতে পারে।
Ingredients
- এচোড় - ৪৫০ গ্রাম
- আলু - ১ টি
- টমেটো - ১ টি
- পিঁয়াজ - ১ টি
- আদা বাটা - ১/২ টেবিল চামচ
- রসুন বাটা - ১ টেবিল চামচ
- কাচা লঙ্কা বাটা - ১/২ টেবিল চামচ
- আস্ত কাঁচা লঙ্কা - ৪-৫ টি
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/৪ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১ চামচ (ঘরের তৈরি)
- নুন - স্বাদমত
- সর্ষের তেল -পরিমানমত
- এলাচ - ২ টি (ফোঁড়নের জন্য)
- লবঙ্গ - ১ টি (ফোঁড়নের জন্য)
- দাড়চিনি - ১ টুকরো (ফোঁড়নের জন্য)
- তেজপাতা - ১ টি (ফোঁড়নের জন্য)
Instructions
- প্রথমে এচোড়ের খোসা ছাড়িয়ে চৌক আকারে কেটে পরিমানমত জল, নুন ও হলুদ গুড়ো দিয়ে ৫ থেকে ৭ সিদ্ধ করে নিতে হবে। তারপর গরম জল ফেলে ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ঝাঝরিরতে নিয়ে জল ঝরার পর একটি পাত্রে রাখতে হবে।
- তারপর একটি পাত্রের মধ্যে আলুর খোসা ছাড়িয়ে, পিঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে, টমেটো কেটে ও কাঁচালঙ্কা নিয়ে নিতে হবে।
- আরেকটি পাত্রের মধ্যে আদা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা, ফোঁড়নের জন্য এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি ও তেজপাতা নিয়ে নিতে হবে।
- চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে কড়াইটিকে। এরপর কড়াইতে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর আলু গুলোকে নুন ও হলুদ দিয়ে হালকা লাল করে ভেজে নিতে হবে।
- আলু ভাজার পর ঐ তেলের মধ্যে এচোড় দিয়ে সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে ভালোকরে ভাজতে হবে কম আঁচে ৫ থেকে ১০ মিনিট।
- তারপর কড়াইতে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর ফোঁড়নের সব উপকরণ দিয়ে দিতে হবে। ফোঁড়নের সুন্দর গন্ধ বেরিয়ে আসার পর পিঁয়াজ কুচি দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে।
- পিঁয়াজ ভাজার পর আদা বাটা, রসুন বাটা, কাঁচা লঙ্কা বাটা দিয়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে আদা,রসুনের কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত।
- আদা, রসুন ভাজার পর টমেটোর টুকরো ও সামান্য নুন দিয়ে নাড়িয়ে দিতে হবে। এরপর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ২ থেকে ৩ মিনিট রেখে দিতে টমেটো সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত।
- তারপর হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও অল্প গরম জল দিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে নিতে হবে।
- গুড়ো মশলা কষানোর পর ভেজে রাখা এচোড় ও আলু দিয়ে মশলার সঙ্গে মিশিয়ে কিছুক্ষণ কষিয়ে পরিমানমত গরম জল ও স্বাদমত নুন দিয়ে ঢেকে ফুটিয়ে নিতে হবে ১০ মিনিট পর্যন্ত।
- দশ মিনিট পর চেরা কাঁচা লঙ্কা ও গরম মশলা গুড়ো দিয়ে ভালোকরে একবার নাড়িয়ে ১ থেকে ২ মিনিট ফুটানোর পর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: 1 cup sliceAmount Per Serving: Calories: 155
