অনুষ্ঠান বাড়ির মত আরেকটি রেসিপি কাতলা মাছের কালিয়া / Recipe with tips of Katla Fish Kalia
আজ আরেকটি পুরোনো দিনের জনপ্রিয় রেসিপি নিয়ে এসেছি সেটি হল কাতলা মাছের কালিয়া। কাতলা মাছ মোটামুটি সব জায়গাতেই পাওয়া যায় দেশে বিদেশে। সাধারণত অনুষ্ঠান বাড়িতে এই খাবারটি তৈরি করা হয়। এই খাবারটি ছোটবেলা থেকে খেয়ে এসেছি। অনেক রকমের মশলা দিয়ে এই মশলাদার খাবার তৈরি করা হয়। বাঙালীদের যেকোন অনুষ্ঠানে মাছের পদ থাকবে না এ হতেই পারে না। কাতলা মাছ দিয়ে কালিয়া করা হয় তবে রুই মাছ দিয় কালিয়া তৈরি করা যেতে পারে। আসুন আজ এই রেসিপিটি সবার সাথে শেয়ার করাই যাক।
কাতলা মাছের আরো কয়েক ধরনের সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার আগে শেয়ার করেছি যেমন কাতলা কষা, সর্ষে কাতলা, কাতলা মাছের ঝাল, কাতলা মাছের ঝুরি, কাতলা মাছ দিয়ে আলু ফুলকপির ঝোল ও ঝিঙে, আলু, বড়ি দিয়ে মাছের ঝোল।
কাতলা মাছের কালিয়া তৈরি করার জন্য লাগবে কাতলা মাছ, পিঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, পিঁয়াজ বাটা, টমেটো বাটা, চারমগজ বাটা বা কাজুবাদাম বাটা, কাঁচা লঙ্কা, কিসমিস, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, ভাজা মশলা, চিনি, নুন, সর্ষের তেল, ঘি, তেজপাতা, আস্ত জিরে, এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি ও জয়ীত্রি। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
কাতলা মাছ কেটে ধুয়ে নিতে হবে
প্রথমে কাতলা মাছের পেটির টুকরো নিয়ে ভালোকরে ধুয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে। তারপর ধুয়ে রাখা মাছের টুকরো গুলোর মধ্যে লেবুর রস, নুন ও হলুদ গুড়ো মাখিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে।
কাতলা মাছের মাথা কাটার সময় পিঠের দিক থেকে কাটতে হবে আর খেয়াল রাখতে হবে মাছের পেটের পিতটা কেটে না যায়। পিত কেটে গলে গেলে মাছের তেল ও পেটির অংশ তেতো হয়ে যাবে।


পিঁয়াজ, আদা, রসুন খোসা ছাড়িয়ে বেটে নিতে হবে
চারমগজ একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে কিছুক্ষণ। তারপর পিঁয়াজ, আদা, রসুনের খোসা ছাড়িয়ে টমেটো, কিসমিস ও কাঁচা লঙ্কা সব ধুয়ে নিতে হবে। এরপর পিঁয়াজ কুচি করে, পিঁয়াজ বেটে, আদা বেটে, রসুন বেটে, টমেটো বেটে, চারমগজ বেটে নিতে হবে।

পরিমানমত গুড়ো মশলা ও ফোঁড়নের মশলা নিয়ে নিতে হবে
একটি পাত্রের মধ্যে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, নুন, চিনি, গরম মশলা গুড়ো নিয়ে নিতে হবে। আরেকটি পাত্রের মধ্যে ফোঁড়নের জন্য তেজপাতা, আস্ত জিরে, দাড়চিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জয়ীত্রি ও ঘি নিয়ে নিতে হবে। সর্ষের তেলের জায়গাতে সাদাতেল ব্যবহার করা যেতে পারে।


মেরিনেড করে রাখা মাছের টুকরো গুলো ভেজে নিতে হবে
তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে দিতে হবে। কড়াই গরম হওয়ার পর সর্ষের তেল দিয়ে দিতে হবে। সর্ষের তেল গরম হওয়ার পর মাছের টুকরো গুলো কড়াইতে দিয়ে হালকা করে ভেজে একটি পাত্রের মধ্যে তুলে নিতে হবে। মাছের টুকরো গুলো বেশি কড়া করে ভাজলে ঝোল মাছের টুকরো গুলোর মধ্যে ঢুকবে না।
মাছ ভাজার আগে কড়াই ও তেল দুটোই ভালোভাবে গরম হতে হবে। কড়াই ও তেল ভালোকরে গরম না করলে মাছের টুকরো গুলো কড়াইতে লেগে যাবে।


তারপর পিঁয়াজ কুচি ভেজে নিতে হবে
এরপর ঐ তেলের মধ্যে পরিমানমত ঘি দিয়ে দিতে হবে। তারপর ফোঁড়নের সব আস্ত মশলা দিয়ে দিতে হবে। গোটা মশলা গরম হয়ে সুন্দর গন্ধ বেরিয়ে আসার পর পিঁয়াজ কুচি ও সামান্য নুন দিয়ে হালকা লাল করে ভেজে নিতে হবে। পিঁয়াজ ভাজার সময় চুলার আঁচ কম রেখে ভাজতে হবে।



এরপর বাটা মশলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
পিঁয়াজ ভাজা হওয়ার পর পিঁয়াজ বাটা, আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে ভেজে নিতে হবে। আদা ও রসুন ভাজা হয়ে গেলে টমেটো বাটা, নুন ও চিনি দিয়ে ভালোকরে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে কষিয়ে নিতে হবে। পিঁয়াজ ও রসুন না খেলে আদা ও টমেটো বাটা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।




গুড়ো মশলা ও চারমগজ বাটা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
টমেটো বাটা দিয়ে কষানোর পর পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো ও অল্প গরম জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে। গুড়ো মশলা দিয়ে কষিয়ে নেওয়ার পর চারমগজ বাটা ও কিসমিস দিয়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট কষিয়ে নিতে হবে। এখানে টক দই ও ব্যবহার করা যেতে পারে।




ভেজে রাখা মাছ, পরিমানমত গরম জল ও ভাজা মশলা দিতে হবে
চারমগজ বাটা দিয়ে কষানো হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল দিয়ে ফুটে উঠার পর ভেজে রাখা কাতলা মাছ ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। ভাজা মাছ দিয়ে ফুটানোর পর চেরা কাঁচা লঙ্কা ও ভাজা মশলা দিয়ে আরো ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু কাতলা মাছের কালিয়া।





পরিবেশন করার পদ্ধতি
কাতলা মাছের কালিয়া রান্না করার পর একটি বড় পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। তারপর একটি প্লেটের মধ্যে গরম সাদা ভাত নিয়ে তার পাশেই মাছের তরকারি গরম গরম পরিবেশন করুন। এটি জিরা রাইস দিয়ে ও খাওয়া যেতে পারে। ঘরে মাঝে মধ্যে বা অথিতি আসলে এই রেসিপি তৈরি করলে দারুণ হবে।

কাতলা মাছের গুণাগুন
কাতলা মাছের উপকারিতা হল নিয়মিত কাতলা মাছ খেলে বায়ু, পিত্ত ও কফ কমাতে সাহায্য করে। ফলে গ্যাসের সমস্যা দূর করা যায়। কাজ কর্ম করলে মানুষের শক্তি হ্রাস পায় তাই এই শক্তি পূরণ করার জন্য নিয়মিত কাতলা মাছ খেতে হবে। ২ দশমিক ৩ মিলিমিটার আয়রন আছে এই মাছে। আয়রনের ঘাটতি পূরণ করাতে কাতলা মাছের তুলনা হয় না। এই মাছের শরীরে থাকা ‘ওমেগা থ্রি’ ফ্যাটি এসিড দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যারা সারাদিন কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করে তাদের প্রতিদিনের খাবারে মাছ থাকা খুব দরকার।
উপসংহার
অনেকের ঘরে মাছ ছাড়া চলে না তাই মাছের ঝোল ঝাল থেকে একটু আলাদা এই কাতলা মাছের কালিয়া। কাতলা মাছের কালিয়া বহু পুরনো দিনের জনপ্রিয় একটি খাবার। মাঝে মধ্যে একটু অন্যরকম মাছের আইটেম খেতে চাইলে এটি দারুণ হবে।
Katla Macher Kalia
কাতলা মাছের কালিয়া অনেক রকমের মশলা দিয়ে এই মশলাদার খাবার তৈরি করা হয়। বাঙালীদের যেকোন অনুষ্ঠানে মাছের পদ থাকবে না এটা তো হতেই পারে না। কাতলা মাছ দিয়ে কালিয়া করা হয় তবে রুই মাছ দিয়ে কালিয়া তৈরি করা যেতে পারে।
Ingredients
- কাতলা মাছ - ৫ টুকরো
- পিঁয়াজ কুচি - ১/২ টি
- আদা বাটা - ১/২ চামচ
- রসুন বাটা - ১/২ চামচ
- পিঁয়াজ বাটা - ১/২ টি
- টমেটো বাটা - ১ টি
- চারমগজ বাটা বা কাজুবাদাম বাটা - ২ টেবিল চামচ
- কাঁচা লঙ্কা - ৫ টি
- কিসমিস - পরিমানমত
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/২ চামচ
- ধনে গুড়ো - ১/২ চামচ
- ভাজা মশলা - ১/২ চামচ
- চিনি - ১/২
- নুন - স্বাদমত
- সর্ষের তেল ও ঘি - পরিমানমত
- ফোঁড়নের জন্য - তেজপাতা, আস্ত জিরে, এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি ও
- জয়ীত্রি
Instructions
- প্রথমে কাতলা মাছের পেটির টুকরো নিয়ে ভালোকরে ধুয়ে পরিস্কার করে নিতে হবে।
- তারপর ধুয়ে রাখা মাছের টুকরো মধ্যে লেবুর রস, নুন ও হলুদ গুড়ো মাখিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে।
- এরপর পিঁয়াজ কুচি করে, পিঁয়াজ বেটে, আদা বেটে রসুন বেটে, টমেটো বেটে, চারমগজ বেটে, কিসমিস ও কাঁচা লঙ্কা নিয়ে নিতে হবে।
- একটি পাত্রের মধ্যে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, নুন, চিনি, গরম মশলা গুড়ো নিয়ে নিতে হবে।
- আরেকটি পাত্রের মধ্যে ফোঁড়নের জন্য তেজপাতা, আস্ত জিরে, দাড়চিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জয়ীত্রি ও ঘি নিয়ে নিতে হবে।
- তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর মাছের টুকরো গুলো কড়াইতে দিয়ে ভেজে তুলে নিতে হবে।
- এরপর ঐ তেলের মধ্যে পরিমানমত ঘি দিয়ে দিতে হবে। তারপর ফোঁড়নের সব আস্ত মশলা দিয়ে দিতে হবে।
- গোটা মশলা গরম হয়ে সুন্দর গন্ধ বেরিয়ে আসার পর পিঁয়াজ কুচি ও সামান্য নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
- পিঁয়াজ ভাজা হওয়ার পর পিঁয়াজ বাটা, আদা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে ভেজে নিতে হবে।
- আদা ও রসুন ভাজা হয়ে গেলে টমেটো বাটা, নুন ও চিনি দিয়ে ভালোকরে ২ থেকে ৩ মিনিট ধরে কষিয়ে নিতে হবে।
- টমেটো বাটা দিয়ে কষানোর পর পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো ও অল্প গরম জল দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।
- গুড়ো মশলা দিয়ে কষিয়ে নেওয়ার পর চারমগজ বাটা ও কিসমিস দিয়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট কষিয়ে নিতে হবে।
- চারমগজ বাটা দিয়ে কষানো হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল দিয়ে ফুটে উঠার পর ভেজে রাখা কাতলা মাছ ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- ভাজা মাছ দিয়ে ফুটানোর পর চেরা কাঁচা লঙ্কা ও ভাজা মশলা দিয়ে আরো ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।
