কাতলা মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি | Katla Fish Head with Cabbage
কাতলা মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি একটি দারুণ সুস্বাদু এবং বাঙালীদের প্রিয় খাবার। বাঁধাকপি দিয়ে অনেক রকম পদ রান্না করা হয় তার মধ্যে এটি একটি। সাধারণত অনুষ্ঠান বাড়িতে আর ঘরে অথিতি আসলে এই পদ রান্না হয়ে থাকে।
এই পদটি খেতে দারুণ কিন্ত রান্না করাতে একটু বেশি সময় লাগে। ইলিশ মাছের মাথা ও রুই মাছের মাথা দিয়ে বাধাকপি দিয়ে রান্না করলে খুব ভালো লাগে খেতে।
মাছের মাথার আরো কিছু সহজ পদের রেসিপি শেয়ার করা আছে যেমন মুড়িঘন্ট, রুই মুগ ডাল, কাতলা মাছের মাথা দিয়ে ফরাস বিচির ডাল দেখে বানাতে পারেন।
কাতলা মাছের মাথা, বাঁধাকপি, আলু, টমেটো, পিঁয়াজ, আদা থেঁতো, রসুন কুচি, কাঁচা লঙ্কা, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, আস্ত জিরে, এলাচ, দাড়চিনি, তেজপাতা, নুন, সর্ষের তেল। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
রান্নার পদ্ধতি
প্রথমে কাতলা মাছের মাথা কেটে ধুয়েপরিস্কার করে জল ঝরিয়ে রাখতে হবে। যদি মাছের মাথার মধ্যে পিচ্ছিল থাকে তখন নুন ও লেবুর রস মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে নিলে পিচ্ছিল ভাব চলে যাবে। কোনসময় ঘরে লেবু না থাকলে শুধু নুন মাখিয়ে রাখলে হবে।

মেরিনেশন
মাছের মাথার টুকরো গুলোকে নুন ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রেখে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য। মেরিনেশনের সময় অল্প লেবুর রস ও সর্ষের তেল যোগ করলেও ভালো হয়।

বাঁধাকপি কাটা ও ধুয়ার পদ্ধতি
এই পদটির জন্য বাঁধাকপি কুচি করে কাটতে হবে। এবারে কুচি করাটা বেশি ছোট বা একটু বড় কুচি করলে হবে। নিচে ছবিতে দেওয়া আছে বাঁধাকপি কাটার ধরন। কুচি করা বাঁধাকপিকে নুন ও গরম জল দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে ৫/৭ মিনিট। তারপর জল দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
ধুয়ে রাখা বাঁধাকপি প্রেসার কুকারে নিয়ে সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে ভাপিয়ে নিতে হবে। কম মধ্যম আঁচে ১ সিটি বা ২ সিটি দিলে হবে। এবারে সিটি দেওয়ার ৫ মিনিট পর প্রেসার কুকার খুলে বাধাকপি একটি ঝাঝরি নিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
বাঁধাকপি ধুয়ার আগে কিছুক্ষণ নুন ও গরম জল ভিজিয়ে রাখতে হবে কারণ বাঁধাকপির মধ্যে পোকা থাকে যা অনেক সময় চোখে দেখা যায় না। বাঁধাকপি শুধু রান্না করে খাওয়া হয় না কাঁচা ও খাওয়া হয়।


সব্জি ও মশলা তৈরির পদ্ধতি
আলু, পিঁয়াজ, আদা, রসুনের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে। টমেটো ও কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে রাখতে হবে। একটি প্লেটের মধ্যে আলু চৌক আকারে টুকরো, টমেটো টুকরো, পিঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি, আদা থেতো ও কাঁচা লঙ্কা কুচি করে রাখতে হবে।

গুড়ো মশলা
আরেকটি প্লেটে মধ্যে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো ও ফোঁড়ন দেওয়ার জন্য আস্ত মশলা নিয়ে রাখতে হবে।

মাছের মাথা ভাজা
চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখা মাছের মাথা কড়াইতে দিয়ে ভালোকরে ভেজে নিতে হবে। একটু কড়া করে ভাজার পর একটি প্লেটের মধ্যে তুলে নিতে হবে।




আলু ভাজা
টুকরো করে রাখা আলুকে গরম তেলের মধ্যে দিয়ে সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে একটু লাল করে ভেজে নিতে হবে। আলু ভাজা হয়ে গেলে একটি তুলে রাখতে হবে।



ফোঁড়ন ও পিঁয়াজ ভাজা
আলু ভাজার পর ঐ তেলের মধ্যে ফোঁড়নের সব উপকরণ দিয়ে দিতে হবে। ফোঁড়নের সব উপকরণ ফুটতে শুরু করলে তখন পিঁয়াজ কুচি দিয়ে হালকা করে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে।

মশলা ভাজা
পিঁয়াজ হালকা ভাজার পর রসুন কুচি, আদা থেতো, কাঁচা লঙ্কা কুচি, টমেটোর টুকরো ও অল্প নুন দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে।

গুড়ো মশলা
মশলা ভাজা হয়ে গেলে তাতে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও আধ কাপ গরম জল দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট ঢেকে দিয়ে দিতে হবে।


ভেজে রাখা মাছের মাথা ও আলু
মশলা কষানোর পর ভেজে রাখা মাছের মাথা, ভাজা আলু, ভাপানো বাঁধাকপি ও স্বাদমত নুন দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর এক কাপ গরম জল দিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ৫ থেকে ৬ মিনিট রান্নার করতে হবে। আর মধ্যে মধ্যে ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দিতে হবে।




নামানোর আগে
কাঁচা লঙ্কা ও গরম মশলা দিয়ে দিতে হবে নামানোর আগে। ১ মিনিট ধরে ভালোকরে মিশিয়ে নিয়ে নামিয়ে হবে। এখানে ঘি দেওয়া হয় নি তবে ঘি দেওয়া যেতে পারে নামানোর আগে। ঘি ছাড়াও খেতে দারুণ হয়।


পরিবেশনের পদ্ধতি
এই পদটি ভাত ও রুটির সাথে ভালো লাগে। ঘরে অথিতি আসলে বা কোনো নিজেদের জন্য রান্না করে গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করে খেতে দারুণ লাগবে।

বাঁধাকপির উপকারিতা
বাঁধাকপির এতো জনপ্রিয়তা যে দেশে বিদেশে পাওয়া যায় আর বিভিন্ন পদের সাথে রান্না করা হয়। এমন কি কাঁচা ও অনেক কিছুতে ব্যবহার হয়। বাঁধাকপির মধ্যে অনেক পুষ্ঠিগুন আছে। বাঁধাকপি শরীরের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ায়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও সোডিয়াম হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে আর হাড় ভালো রাখতে সহায়তা করে। বাঁধাকপিতে সালফোরাফেন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে। এতে আরও আছে শর্করা, ফাইবার, চর্বি, থায়ামিন, রিবোফ্লেভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬।
বাঁধাকপির অপকারিতা
বাঁধাকপি ও ফুলকপি জাতীয় সব্জিতে লম্বা আকারের পোকা থাকে। সেটি শরীরে পৌঁছানোর পর পৌঁছাতে পারে মস্তিষ্কে। এটিকে টেপওয়ার্ম বলে জানা যায়। বাঁধাকপিতে থাকা এই টেপওয়ার্ম শরীরে প্রবেশের পর ডিমে পাড়ে আর ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। এটি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেক ঔষধ ও আছে। বাঁধাকপি ভালোভাবে পরিপাক না হলে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হতে পারে।
উপসংহার
শীতকালে প্রচুর তাজা বাঁধাকপি উঠে বাজারে আর সেই তাজা বাঁধাকপি রান্না করে খাওয়ার মজাই আলাদা। দুপুর বেলার খাবারে একটি পদ বাঁধাকপি মটরশুটি দিয়ে তাহলে তো কথাই নেই। শীতকালীন এই সব্জি শুধু শীতকালে না সবসময়ই পাওয়া যায় তবে শীতকালে বেশী ভালো লাগে খেতে। ঘরে অথিতি আসলে এই পদটি নীচে বলে দেওয়া পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়ালে সবাই প্রশংসা করবে।মাছের মাথা কেনার সময় খেয়াল রাখতে হবে মাথাটা বড় আকারের আর তাজা হয়।
কাতলা মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি
কাতলা মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি একটি দারুণ সুস্বাদু এবং বাঙালীদের প্রিয় খাবার। বাঁধাকপি দিয়ে অনেক রকম পদ রান্না করা হয় তার মধ্যে এটি একটি। সাধারণত অনুষ্ঠান বাড়িতে আর ঘরে অথিতি আসলে এই পদ রান্না হয়ে থাকে। এই পদটি খেতে দারুণ কিন্ত রান্না করাতে একটু বেশি সময় লাগে। ইলিশ মাছের মাথা ও রুই মাছের মাথা দিয়ে বাধাকপি দিয়ে রান্না করলে খুব ভালো লাগে খেতে। শীতকালে প্রচুর তাজা বাঁধাকপি উঠে বাজারে আর সেই তাজা বাঁধাকপি রান্না করে খাওয়ার মজাই আলাদা।
Ingredients
- কাতলা মাছের মাথা - ১ টি
- বাঁধাকপি ছোট আকারের - ১ টি
- আলু মাঝারি আকারের - ১ টি
- টমেটো ছোট আকারের - ১ টি
- পিঁয়াজ মাঝারি আকারের - ১ টি
- আদা মিহি করে থেতো - ১ চামচ
- রসুন কুচি - ১/২ চামচ
- কাঁচা লঙ্কা - ৫ টি
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১/২ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/২ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১/২ চামচ (ঘরের তৈরি)
- ফোঁড়নের জন্য - আস্ত জিরে ১/২ চামচ, এলাচ ২ টি, দাড়চিনির টুকরো ১ টি, তেজপাতা ১ টি
- নুন - স্বাদমত
- সর্ষের তেল - পরিমানমত
Instructions
- প্রথমে কাতলার মাছের মাথাকে ভালোভাবে ধুয়েপরিস্কার করে রাখতে হবে
- ধুয়ে রাখা মাছের মাথাকে নুন ও হলুদ দিয়ে মাখিয়ে রেখে দিতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের জন্য
- বাঁধাকপি কুচি করে কেটে ধুয়ে অল্প নুন দিয়ে ভাপিয়ে রেখে দিতে হবে
- একটি প্লেটে আলু টুকরো, টমেটো টুকরো, পিঁয়াজ কুচি, রসুন কুচি, আদা থেতো, কাঁচা লঙ্কা কুচি এইসব তৈরি করে রাখতে হবে
- আরেকটি প্লেটে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, নুন, গরম মশলা গুড়ো ও ফোঁড়নের সব উপকরণ নিয়ে রাখতে হবে
- কড়াইতে পরিমানমত সর্ষের তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখা মাছের মাথাকে কড়া করে ভেজে তুলে রাখতে হবে
- এবারে আলুর টুকরো গুলোকে সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে লাল করে ভেজে তুলে রাখতে হবে
- ঐ তেলের মধ্যেই ফোঁড়নের সব উপকরণ দিয়ে গরম হওয়ার পর পিঁয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। পিঁয়াজ কুচি গুলোকে হালকা করে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে
- পিঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে তাতে রসুন কুচি, আদা থেতো, কাঁচা লঙ্কা কুচি, টমেটো টুকরো ও অল্প নুন দিয়ে আরো ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে
- মশলা ভাজা হয়ে গেলে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও আধ কাপ গরম জল দিয়ে ভালোকরে নেড়ে ৩ থেকে ৪ মিনিটের জন্য ঢেকে দিয়ে দিতে হবে
- মশলা কষানোর পর তাতে ভেজে রাখা মাছের মাথা, ভাজা আলু, ভাপানো বাঁধাকপি ও স্বাদমত নুন দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে এক কাপ গরম জল দিয়ে ৫ থেকে ৬ মিনিট ঢেকে রান্না করতে হবে
- নামানোর আগে গরম মশলা গুড়ো ও চেরা দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নামিয়ে নিতে হবে
