ফরাস বিচির ডাল কাতলা মাছের মাথা দিয়ে | Recipe of Forash Dal with Katla Fish head
ফরাস বিচি হল এক ধরনের ডাল যা নিরামিষ ও আমিষ দু ভাবেই খাওয়া যায়। এই ফরাস বিচিকে হিন্দিতে রাজমা আর ইংলিশে বিন্স(Beans) বলা হয়। এটি শীতের সময় বাজারে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। এই ডাল আসামে যেমন খুব জনপ্রিয় তেমনই বাংলাদেশেও।
এই ফরাস বিচি ফ্রান্স থেকে এসেছিল বলে এর নাম ফরাস। ইংলিশে এটিকে ফ্রেঞ্চ বিন্স(French Beans) বলে। এই ফরাস বিচি দিয়ে যেমন ডাল রান্না করা হয় তেমনই এর খোসা বেটে বড়া বানানো হয়। এই ডাল খেতে দারুণ লাগে আর এর মধ্যে পুষ্ঠিগুন ও আছে অনেক।
এই ফরাস বিচি অনেক রকমের পদ রান্না করা যায়। আমি এই ডাল পিঁয়াজ, রসুন ছাড়া রান্না করেছি। পিঁয়াজ, রসুন ছাড়াও এই ডাল খেতে অনেক সুস্বাদু। মাছের মাথা দিয়ে আরো সুস্বাদু রেসিপি শেয়ার করা আছে যেমন মুড়ি ঘণ্ট, কাতলা মাথা দিয়ে বাঁধাকপি, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল এইগুলো দেখে নিতে পারেন।
ফরাস বিচির ডাল বানানোর জন্য লাগবে শুকনো অথবা কাঁচা ফরাস বিচি, কাতলা মাছের মাথা, টমেটো, আদা থেতো, কাঁচা লঙ্কা, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, সর্ষের তেল, নুন, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, আস্ত জিরে, ধনেপাতা। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
প্রথমে ফরাস বিচি ভিজিয়ে রাখতে হবে
প্রথমে ফরাস বিচিকে একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত। তারপর যখন বিচিগুলো ফুলে যাবে তখন ফরাস বিচির জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
এখানে খোসা ছাড়ানো শুকনো ফরাস বিচি ব্যবহার করা হয়েছে। যদি খোসা সহ শুকনো বিচি থাকে তাহলে বিচি ভিজে যাওয়ার পর যখন ফুলে যাবে তখন ফরাস বিচির খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে।
আর যদি কাঁচা নুতন বিচি থাকে তাহলে জলের মধ্যে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই খোসা ছাড়িয়ে রান্না করা যায়।



কাতলা মাছের মাথাকে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে
কাতলা মাছের মাথাকে ভালোভাবে ধুয়ে পরিস্কার করার পর নুন ও হলুদ মাখিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে যাতে নুন হলুদ মাছের মাথার মধ্যে ঢুকে।
কোন সময় কতলা মাছের মাথার মধ্যে যদি আসটে গন্ধ থাকে তাহলে মাছের মাথাকে লেবুর রস দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিলেই গন্ধ চলে যাবে।


টমেটো, আদা ইত্যাদি কেটে বেটে তৈরি করে রাখতে হবে
এবারে টমেটো ধুয়ে টুকরো করে, আদার খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে থেতো করে, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা ধুয়ে একটি পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে। টমেটোর পিউরি ও ব্যবহার করা যেতে পারে টমেটোর টুকরোর জায়গায়। ধনেপাতা দিলেও হবে আর না দিলে ও কোন অসুবিধা নেই।

পরিমানমত গুড়ো মশলা ও ফোঁড়নের মশলা নিতে হবে পাত্রের মধ্যে
আরেকটি পাত্রের মধ্যে নুন, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও গরম মশলা গুড়ো নিয়ে নিতে হবে। ফোঁড়নের জন্য নিতে হবে আস্ত জিরে, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা। বাটা মশলা হৌক বা আস্ত মশলাই হৌক হাতের কাছে তৈরি থাকলে রান্না করতে সুবিধে হয়।


তারপর কাতলা মাছের মাথাকে ভেজে নিতে হবে
তারপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। কড়াই গরম হওয়ার পর নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখা মাছের মাথাকে ভেজে নিতে হবে।
মাছের মাথাকে একটু কড়া করে ভাজতে হবে। ডালের মধ্যে মাছের মাথা কড়া করে দিলে ভালো লাগে খেতে।


এরপর ফোঁড়ন দিয়ে টমেটো, আদা ভেজে নিতে হবে
মাছের মাথা ভাজা হওয়ার পর ঐ তেলের মধ্যে আরো একটু তেল যোগ করে ফোঁড়নের সব মশলা দিয়ে দিতে হবে। আস্ত মশলার যখন রং বদলে যাবে তখন টমেটোর টুকরো, আদা থেতো ও অল্প নুন দিয়ে ১ মিনিট ভেজে নিতে হবে।



টমেটো ও আদা ভাজার পর ফরাস বিচি দিয়ে ভেজে নিতে হবে
টমেটো ও আদা এক মিনিট ধরে ভেজে নেওয়ার পর জল ঝরিয়ে রাখা ফরাস বিচি দিয়ে নাড়িয়ে দিয়ে ১ মিনিট থেকে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে।
গুড়ো মশলা দেওয়ার আগে একটু ভেজে নিলে ভালো।

তারপর ফরাস বিচিকে হলুদ ও লঙ্কা গুড়ো দিয়ে ভেজে নিতে হবে
ফরাস বিচি এক মিনিট থেকে দুই মিনিট ভাজার পর তার মধ্যে হলুদ গুড়ো ও লঙ্কা গুড়ো দিয়ে নাড়িয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে। গুড়ো মশলা দেওয়ার পর যদি মনে হয় কড়াইতে লেগে যাচ্ছে তাহলে একটু গরম জল দিয়ে ভেজে বা কষিয়ে নিতে হবে।


তারপর গরম জল, জিরে গুড়ো ও স্বাদমত নুন দিয়ে ফুটাতে হবে
গুড়ো মশলার সাথে ২ থেকে ৩ মিনিট ভাজার পর দুই কাপের মতন গরম জল দিয়ে দিতে হবে।তারপর জিরে গুড়ো ও স্বাদমত নুন দিয়ে ঢেকে ফুটিয়ে নিতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
ফরাস বিচি সিদ্ধ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে পুরো গলে যাওয়ার মত সিদ্ধ করলে ভালো লাগবে না। সিদ্ধ হবে কিন্ত গলে না এই অবস্থায় রাখতে হবে।
রান্না করার সময় গরম জল ব্যবহার করলে রান্না তাড়াতাড়ি হয় আর তরকারির স্বাদ বাড়ে।


ফরাস বিচি সিদ্ধ হয়ে গেলে মাছের মাথা দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে
ফরাস বিচি ১৫ মিনিট ফুটানোর পর সিদ্ধ হয়ে গেলে ভেজে রাখা মাছের মাথা ও গরম জল দিয়ে আরো ৫ মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিতে হবে। এই একটু ঘন ঘন করেই রান্না করলে ভালো লাগে খেতে। তাই আমি এখানে ঘন করেই বানিয়েছি।



অবশেষে গরম মশলা ও কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে
নামানোর আগে চেরা কাঁচা লঙ্কা ও গরম মশলা গুড়ো দিয়ে এক দুই মিনিট ফুটানোর পর নামিয়ে নিতে হবে। রান্নার একদম শেষে কাঁচা লঙ্কা দিলে অপূর্ব সুন্দর গন্ধ হয় তরকারির মধ্যে। রান্নাতে আগে কাঁচা লঙ্কা ব্যবহার করলে এতো সুন্দর গন্ধ হয় না যেরকম পরে দিলে হয়।



পরিবেশন করার পদ্ধতি
ফরাস বিচির ডাল কাতলা মাছের মাথা দিয়ে রান্না করার পর একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। এটি গরম গরম খেতে ভালো লাগবে। গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন আর খাবার উপভোগ করুন। তবে এই ঘন ডাল রুটি বা লুচির সাথে ও খেয়ে দেখা যেতে পারে।
ফরাস বিচির উপকারিতা
ফরাস বিচিতে রয়েছে ভিটামিন সি যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এটি জাতীয় খাবার যা পেট পরিস্কার করতে সাহায্য করে।
ফরাস বিচিতে রয়েছে এক ধরনের ফাইবার যা রক্তে সর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ ও ভিটামিন কে, যা শরীরে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রোধ করতে সাহায্য করে।
এটিতে ভিটামিন কে থাকার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য বিশেষ উপকারী।উচ্চ ফাইবার যুক্ত ফরাস বিচি রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
উপসংহার
ফরাসবিচি কাঁচা অবস্থায় শুধু শীতের সময়ই পাওয়া যায়। অনেকের ঘরে এই কাঁচা বিচি রোদে শুকিয়ে রাখা হয় যাতে মাঝে মধ্যে খাওয়া যেতে পারে। এই ফরাস বিচি অনেক রকমের পদ রান্না করা যায়। আমি এই ডাল পিঁয়াজ, রসুন ছাড়া রান্না করেছি। পিঁয়াজ, রসুন ছাড়াও এই ডাল খেতে অনেক সুস্বাদু। মাঝে মধ্যে এইরকম সুস্বাদু ফরাস ডালের রেসিপি বানানো যেতেই পারে।
ফরাস বিচির ডাল কাতলা মাছের মাথা দিয়ে
এই ফরাস বিচি ফ্রান্স থেকে এসেছিল বলে এর নাম ফরাস। ইংলিশে এটিকে ফ্রেঞ্চ বিন্স(French Beans) বলে। এই ফরাস বিচি দিয়ে যেমন ডাল রান্না করা হয় তেমনই এর খোসা বেটে বড়া বানানো হয়। এই ডাল খেতে দারুণ লাগে আর এর মধ্যে পুষ্ঠিগুন ও আছে প্রচুর।
Ingredients
- শুকনো ফরাস বিচি - ১ কাপ থেকে একটু কম
- কাতলা মাছের মাথা - ১ টি
- টমেটো - ১ টি
- আদা থেতো - ১ চামচ
- কাঁচা লঙ্কা - ৪ - ৫
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১/২ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/২ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১/২ চামচ
- সর্ষের তেল - পরিমানমত
- নুন - স্বাদমত
- ফোঁড়নের জন্য - তেজপাতা ২ টি, শুকনো লঙ্কা আস্ত ২ টি, আস্ত জিরে ১/২ চামচ
- ধনেপাতা - সামান্য
Instructions
- প্রথমে ফরাস বিচিকে একটি পাত্রের মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত। তারপর যখন বিচিগুলো ফুলে যাবে তখন ফরাস বিচির জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
- তারপর কাতলা মাছের মাথাকে ধুয়ে পরিস্কার করার পর নুন ও হলুদ মাখিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।
- এবারে টমেটো ধুয়ে টুকরো করে, আদার খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে থেতো, কাঁচা লঙ্কা ও ধনেপাতা ধুয়ে একটি পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে।
- আরেকটি পাত্রের মধ্যে নুন, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও গরম মশলা গুড়ো নিয়ে নিতে হবে। ফোঁড়নের জন্য নিতে হবে আস্ত জিরে, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা।
- তারপর গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। কড়াই গরম হওয়ার পর নুন, হলুদ মাখিয়ে রাখা মাছের মাথাকে ভেজে নিতে হবে।
- মাছের মাথা ভাজা হওয়ার পর ঐ তেলের মধ্যে ফোঁড়নের সব মশলা দিয়ে দিতে হবে। তারপর টমেটোর টুকরো, আদা বাটা ও অল্প নুন দিয়ে ১ মিনিট ভেজে নিতে হবে।
- টমেটো ও আদা এক মিনিট ধরে ভেজে নেওয়ার পর জল ঝরিয়ে রাখা ফরাস বিচি দিয়ে নাড়িয়ে দিয়ে ১ মিনিট থেকে ২ মিনিট ভেজে নিতে হবে।
- ফরাস বিচি এক মিনিট থেকে দুই মিনিট ভাজার পর তার মধ্যে হলুদ গুড়ো ও লঙ্কা গুড়ো দিয়ে নাড়িয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভেজে নিতে হবে।
- গুড়ো মশলার সাথে ২ থেকে ৩ মিনিট ভাজার পর দুই কাপের মতন গরম জল দিয়ে দিতে হবে।
- তারপর জিরে গুড়ো ও স্বাদমত নুন দিয়ে ঢেকে ফুটিয়ে নিতে হবে ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত।
- ফরাস বিচি ১৫ মিনিট ফুটানোর পর সিদ্ধ হয়ে গেলে ভেজে রাখা মাছের মাথা ও গরম জল দিয়ে আরো ৫ মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিতে হবে।
- নামানোর আগে চেরা কাঁচা লঙ্কা ও গরম মশলা গুড়ো দিয়ে এক দুই মিনিট ফুটানোর পর নামিয়ে নিতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: 100gm boiled forash bichiAmount Per Serving: Calories: 127
