মুলোর পরোটা কিভাবে বানাবেন | How To Make Radish Paratha
পরোটা একটি সুস্বাদু মুখরোচক খাবার। সবার প্রিয় আর সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। পরোটা বিভিন্ন ধরনের পুর দিয়ে বানানো হয় তবে পুর ছাড়াও বানানো হয়। অনেক ধরনের পরোটার মধ্যে একটা হল মুলোর পরোটা। শীতকালে এই সব্জি প্রচুর পাওয়া যায়। ঠান্ডার সময় প্রত্যেকের ঘরে বানানো হয়। পরোটা সাধারণত দই, আচার, সস খাওয়া হয়।
এই মুলোর পরোটা অনেক রকম করে বানানো যায় যেমন কোনসময় মুলোর পুর ভেজে করা হয়, কোনসময় মশলা মাখিয়ে পুর কাঁচা রাখা হয় আবার কোনসময় গ্রেট করা মুলো আর মশলা আটার সঙ্গে মাখিয়ে নিয়ে করা হয়। মুলোর পরোটা সাস্থকর একটি খাবার কারণ মুলোর মধ্যে রয়েছে অসাধারণ গুন। মুলো স্যালাড হিসাবে ও খাওয়া হয়। প্রাতরাশের আরো কিছু রেসিপি যেমন লুচি আলুর দম, ছোলার ডাল, সুজির ইডলি, পোহা, উপমা, পায়েস ইত্যাদি শেয়ার করা আছে দেখে নিতে পারেন।
মুলো, আটা, আস্ত জিরে, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, চাট মশলা, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা, সাদা তেল, নুন, মাখন। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
মুলোর পরোটা ময়দা দিয়েও বানানো হয় তবে ময়দা থেকে আটা সাস্থকর বেশি। সাদাতেল ছাড়া ঘি, মাখন দিয়েও বানানো হয়। আস্ত জিরের জায়গায় জওয়ান ব্যবহার করা যায়। আটা মাখানোর জন্য লাগবে সাদাতেল (রিফাইন্ড তেল), নুন, আস্ত জিরে ও হালকা গরম জল।
পরোটা বানানোর পদ্ধতি
প্রথমে মুলো গুলোর খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ধুয়ে রাখা মুলো একটি একটি করে গ্রেট করে অল্প নুন মাখিয়ে রাখতে হবে। গ্রেটার না থাকে তাহলে বটি বা ছুরি দিয়ে একদম সরু সরু করে কেটে নিতে হবে। মুলো গ্রেট করার পর মুলো থেকে জল বেরোবে তখন হাতের মধ্যে অল্প অল্প করে মুলো নিয়ে চেপে চেপে জল বের করার পর শুকনো একটি বাটিতে তুলে নিতে হবে।

মশলা
একটি প্লেটের মধ্যে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, চাট মশলা, আস্ত জিরে, নুন নিয়ে কাঁচা লঙ্কা কুচি ও ধনেপাতা কুচি করে রাখতে হবে। সব উপকরণ তৈরি করে রাখলে রান্না করতে বেশি সময় লাগে না।

আটার মিশ্রণ
একটু বড় বাটিতে ৩ কাপ আটা নিয়ে তাতে সাদা(রিফাইন্ড) তেল, অল্প নুন ও হালকা গরম জল দিয়ে মেখে আধ ঘন্টার জন্য ঢেকে রেখে দিতে হবে। আটার মিশ্রণটি বানানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে যে মিশ্রণটি বেশি শক্ত বা বেশি নরম না হয়।
আটার মিশ্রণ বানানোর সময় অল্প অল্প করে জল মেশাতে হয় কারণ একবারে যদি বেশি জল পড়ে যায় এরজন্য অতিরিক্ত আটা মেশানো হলে রুটি বা পরোটা ভালো হবে না।



মুলোর পুর
পুর বানানোর জন্য চুলায় ফ্রাই পেন বসিয়ে পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার জন্য একটু সময় দিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর জিরে ফোঁড়ন দিয়ে হবে। ফোঁড়নের রং বদলাতে করলে গ্রেট করা মুলো দিয়ে দিতে হবে।


তারপর কাঁচা লঙ্কা কুচি, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও স্বাদমত নুন দিয়ে ভালোভাবে নাড়িয়ে ৩ থেকে ৪ ভাজতে হবে।


তিন/ চার মিনিট ভাজার পর গরম মশলা গুড়ো, চাট মশলা ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে নেড়ে অল্প কিছুক্ষণ রেখে একটি বাটিতে তুলে নিতে হবে আর ঠান্ডা হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।



আটার লেচি ও পরোটা
মেখে রাখা আটার মিশ্রণকে আরো একটু সময় ডলে নিলে ভালো হবে। এবারে একটু বড় বড় করে ৫/৬ টি লেচি বানিয়ে নিতে হবে।

তারপর আটার লেচি গুলো থেকে একটি লেচি নিয়ে চাকিতে রেখে একটু আটার গুড়ো দিয়ে দিতে হবে লেচির উপরে। এবারে বেলন দিয়ে একটু বড় করে বেলে নিতে হবে।


একটু বড় রুটির আকারে বেলার পর তাতে মুলোর পুর ছড়িয়ে দিয়ে ত্রিকোন আকারে ভাজ করে নিতে হবে। ত্রিকোন আকারে ভাজ করার পর পরোটার দুপিঠ আরেকটু বেলেনিতে হবে।


পরোটা ভাজা
চুলা জ্বালিয়ে তাওয়া বসিয়ে গরম করে নিতে হবে কম আঁচে। তাওয়া গরম হওয়ার পর পরোটা দিয়ে দুপিঠ সেকে নিতে হবে তেল ছাড়া। পরোটার দুপিঠ অল্প সেকা হয়ে গেলে ব্রাস বা চামচ দিয়ে তেল লাগিয়ে দিতে হবে পুরো পরোটাতে। তেল লাগানোর পর দুপিঠ ভালোকরে ভেজে নিতে হবে।



পরিবেশন করার পদ্ধতি
পরোটা ভাজার পর পরোটার উপরে এক টুকরো মাখন দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হয়।
পরোটার সঙ্গে আচার বা চাটনি বা টমেটো সস ও পিঁয়াজের গোল গোল করে টুকরো দিতে হয়। দই ,স্যালাড দিয়ে ও খাওয়া হয় এই পরোটা।

উপকারিতা
শীতকালে এই সব্জি প্রায় সবার ঘরেই থাকে। এই সব্জি অনেকের খুব ভালো লাগে আবার কারুর একদমই পছন্দ নয়। মুলোর মধ্যে প্রচুর গুনাগুন রয়েছে যা অনেকেরই যানা নেই। এই মুলো খেলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যাদের যকৃত সম্পর্কিত যে কোন ধরনের সমস্যা আছে তাদের খাবারে মুলো থাকা দরকার।
অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ বৈশিষ্ট্যযুক্ত মুলো উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ডায়বেটিস রোগীদের জন্যও খুব উপকারী। এতে উপস্থিত উপাদানগুলি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এটি জনডিসের রোগীদের জন্য প্যানিসিয়া হিসাবে কাজ করে।
প্রতিদিনে সকালে একটি কাঁচা মুলো খেয়ে জনডিস নিরাময় করা যায় বলে মনে করা হয়। মুলো কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এটি শরীর থেকে টক্সিন অপসারণেও সাহায্য করে তাই এটিকে প্রাকৃতিক ক্লিনজারও বলা হয়।
মুলোর আরও গুনাগুন হচ্ছে এটি শরীরের অন্ত্রগুলি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা কোষঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য এটি ওষুধের মত কাজ করে। ক্ষুধা জনিত সমস্যা দূর করার জন্য এটিকে সব্জি হিসাবে খাওয়া যেতে পারে। মুলো ক্ষুধা বাড়াতে এবং যদি পেট সংক্রান্ত কোন রোগ হয় তবে তাও নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করবে।
উপসংহার
পরোটা খুব সহজে বানানো যায় আর সকাল বেলার একটি উপযুক্ত খাবার। এই পরোটা খেতে আলাদা করে কোন তরকারি বানানোর প্রয়োজন নেই। কোথাও ঘুরতে গেলে পরোটা ও সঙ্গে আচার থাকলে তো দারুণ হবে। এটি উত্তর ভারতের অন্তত জনপ্রিয় একটি খাবার। সকাল বেলার খাবার দুপুর ও বিকেলে খাওয়া যেতে পারে।
মুলোর পরোটা
পরোটা একটি সুস্বাদু মুখরোচক খাবার। সবার প্রিয় আর সব জায়গাতেই পাওয়া যায়। পরোটা বিভিন্ন ধরনের পুর দিয়ে বানানো হয় তবে পুর ছাড়াও বানানো হয়। অনেক ধরনের পরোটার মধ্যে একটা হল মুলোর পরোটা। শীতকালে এই সব্জি প্রচুর পাওয়া যায়। ঠান্ডার সময় প্রত্যেকের ঘরে বানানো হয়। পরোটা সাধারণত দই, আচার, সস খাওয়া হয়। পরোটা খুব সহজে বানানো যায় আর সকাল বেলার একটি উপযুক্ত খাবার। এই পরোটা খেতে আলাদা করে কোন তরকারি বানানোর প্রয়োজন নেই। কোথাও ঘুরতে গেলে পরোটা ও সঙ্গে আচার থাকলে তো দারুণ হবে।
Ingredients
- মুলো - ৪ টি
- আটা - ৩ কাপ
- আস্ত জিরে - ১/২ চামচ
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১/২ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/৪ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১/২ চামচ
- চাট মশলা - ১/২ চামচ
- কাঁচা লঙ্কা - ২ টি
- ধনেপাতা - ২ মুঠো
- সাদা তেল - পরিমানমত
- নুন - স্বাদমত
- মাখন - পরিমানমত
Instructions
- প্রথমে মুলোর খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর একটি একটি করে সব গুলোকে গ্রটারে গ্রেট করে অল্প নুন মাখিয়ে রাখতে হবে ৫/১০ মিনিট। তারপর মুলোর মধ্যে থেকে যে জল বেরিয়ে আসবে সেই জল হাত দিয়ে চেপে চেপে বের করে নিতে হবে।
- তারপর একটি প্লেটে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, চাট মশলা, আস্ত জিরে, নুন, কাঁচা লঙ্কা কুচি ও ধনেপাতা কুচি করে রাখতে হবে।
- এবারে একটি বড় বাটিতে ৩ কাপ আটা নিয়ে তাতে আস্ত জিরে, অল্প নুন ও হালকা গরম জল দিয়ে মেখে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দিতে হবে।
- মুলো ভাজার জন্য চুলায় ফ্রাই পেন বসিয়ে দিতে হবে। ফ্রাই পেটে সাদা তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর জিরে ফোঁড়ন দিতে হবে। জিরে ফোটতে শুরু করলে গ্রেট করা মুলো দিয়ে দিতে হবে।
- তারপর কাঁচা লঙ্কা কুচি, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো ও স্বাদমত নুন দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে মিশিয়ে নিয়ে ৩ থাকে ৪ মিনিট ভাজাতে হবে।
- তারপর গরম মশলা গুড়ো, চাট মশলা ও ধনেপাতা কুচি দিয়ে নেড়ে আরও কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে নিতে হবে একটি বাটিতে ঠান্ডা হওয়ার জন্য ।
- মেখে রাখা আটার মন্ডকে আরেকটু সময় ডলে নিতে হবে। একটু বড় বড় করে ৫/৬ টি লেচি বানিয়ে নিতে হবে।
- এবারে একটি লেচি নিয়ে বড় করে বেলে তাতে মুলোর পুর দিয়ে ত্রিকোন আকারে ভাজ করে আবার একটু বেলে নিতে হবে।
- চুলা জ্বালিয়ে তাওয়া বসিয়ে কম আঁচে গরম করে নিতে হবে। বেলে রাখা পরোটা তাওয়াতে দিয়ে দুপিঠ সেকে নিতে হবে। দুপিঠ সেকার পর সাদা তেল দিয়ে দুপিঠ ভেজে নিতে হবে।
