সুস্বাদু পায়েসের রেসিপি এক কাপ গুড়ো দুধ, সুজির চাল ও সিমুই দিয়ে | Tasty Rice Kheer Preparation With One Cup of Milk Powder
পায়েস হলো বাঙালীদের বহু প্রচলিত ও অত্যন্ত সুস্বাদু একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। যে কোন উৎসব যেমন পুজো পার্বণ, জন্মদিন, বিয়ের অনুষ্ঠান, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি আরো নানা অনুষ্ঠানে এটি মোক্ষ ভুমিকা পালন করে। পায়েসের বিভিন্ন প্রকার আছে তবে পায়েসের নাম শুনলে প্রথমত চালের পায়েসের কথা ভাবি।
গুড়ো দুধ দিয়েও দারুণ স্বাদের পায়েস তৈরী করা যায়। অনেক সময় অনেকের ঘরে গরুর দুধ রাখা হয় না বা দুধ শেষ হয়ে গেছে এই অবস্থায় গুড়ো দুধ দিয়ে পায়েস তৈরী করা যাবে। পায়েস সাধারণত গোবিন্দ ভোগ বা বাসমতি চাল দিয়ে বানানো হয় আর আমি বানিয়েছি রাইস ক্ষীর (Rice Kheer) দিয়ে। এটি এক ধরনের পায়েসের চাল।
পায়েসের মধ্যে কনডেন্স মিল্ক ব্যবহার করা হয়েছে কারণ কনডেন্স মিল্ক ব্যবহার করলে পায়েস বা ক্ষীরের স্বাদ দিগুন হয়ে যায়। কনডেন্স মিল্কের মধ্যে মিষ্টি থাকে তাই আর চিনি বা গুড় মেশাতে হয় না। আমাদের ঘরের সবাই হালকা মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন যেকোন ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবারে। যারা একটু বেশি মিস্টি খেতে ভালোবাসেন তারা চিনি বা গুড় মেশাতে পারেন পায়েস বা ক্ষীরের মধ্যে। প্রাতরাশের আরো কিছু রেসিপি যেমন লুচি আলুর দম, ছোলার ডাল, সুজির ইডলি, পোহা, উপমা, মুলোর পরোটা, মুড়ির মোয়া ইত্যাদি শেয়ার করা আছে দেখে নিতে পারেন।
পায়েস বানানোর জন্য লাগবে গুড়ো দুধ, সুজির চাল, সিমুই, কনডেন্স মিল্ক, তেজপাতা, আস্ত এলাচ, কাজু বাদাম, কিসমিস, অ্যালমণ্ড বাদাম (স্বেচ্ছামূলক/Optional), পিস্তা বাদাম(স্বেচ্ছামূলক/Optional), এলাচ গুড়ো, নুন, জল, তেল, ঘি। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
একটি পাত্রের মধ্যে সব উপকরণ নিয়ে নিতে হবে
প্রথমে পরিমানমত গুড়ো দুধ, কনডেন্স মিল্ক, সুজি দিয়ে বানানো চাল ও সিমুই নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রের মধ্যে। যে কোন রেসিপি বানানোর করার সময় সব উপকরণ তৈরি আগে করে রাখতে হবে।
গুড়ো দুধের পরিবর্তে গরুর দুধ ব্যবহার করা যেতে পারে আর কনডেন্স মিল্কের পরিবর্তে চিনি বা গুড় ব্যবহার করা যেতে পারে।

আস্ত ও গুড়ো মশলা নিয়ে নিতে হবে
আরেকটি পাত্রের মধ্যে তেজপাতা, আস্ত এলাচ, গুড়ো এলাচ, কাজু বাদাম, কিসমিস, পিস্তা বাদাম ও অ্যালমণ্ড বাদাম নিয়ে নিতে হবে। এখানে পিস্তা বাদাম ও অ্যালমণ্ড বাদাম না দিলেও হবে।

গুড়ো দুধ জল দিয়ে গুলে নিতে হবে
এবারে একটি পাত্রে গুড়ো নিয়ে তার মধ্যে অল্প অল্প করে জল ঢেলে দুধ গুলে নিতে হবে। আমি গুড়ো দুধ গুলার জন্য নরমাল জল ব্যবহার করেছি এই জায়গায় ইষদ উষ্ণ গরমজল করা যেতে পারে।
গুড়ো দুধের জায়গায় গরুর দুধ এক লিটার করা যেতে পারে


চাল ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে
এরপর চাল ভালোকরে ধুয়ার পর সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে চালকে মাখিয়ে রাখতে হবে। চাল ধুয়ার পর জল ঝরিয়ে অল্প সাদা তেল বা ঘি চালের মধ্যে লাগিয়ে রাখলে একটা চাল আরেকটার সঙ্গে লেগে যাবে না যখন চাল দুধের মধ্যে ঢালা হবে।


কাজু বাদাম ও কিসমিস ভেজে নিতে হবে
তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে অল্প তেল ও ঘি দিয়ে গরম হওয়ার পর কাজু বাদাম ও কিসমিস ভেজে নিতে হবে। কাজু ও কিসমিস ভাজার পর পায়েসের মধ্যে ব্যবহার করলে বেশি ভালো লাগে। তেল বা ঘি যেকোন একটা ব্যবহার করলে হবে।

দুধ কড়াইতে ঢেলে ফুটিয়ে নিতে হবে
কাজু ও কিসমিস ভাজার পর গুলে রাখা দুধ ঢেলে দিতে হবে। আর দুধ ফুটে উঠার জন্য ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। দুধ ফুটানোর সময় একটু পর পর নাড়িয়ে দিতে হবে কারণ কড়াইয়ের নিচে লেগে যেতে পারে।

দুধ ফুটে উঠার পর তেজপাতা ও এলাচ দিতে হবে
দুধ ফুটে উঠার পর তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তেজপাতা ও গোটা এলাচ দিয়ে একটা সময় ফুটিয়ে নিলে গোটা মশলার সুন্দর গন্ধ দুধের সঙ্গে মিশে যায়। এরজন্য পায়েস আরো দারুণ লাগে খেতে।

এবারে ধুয়ে রাখা চাল দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে
দুই থেকে তিন মিনিট ফুটানোর পর ধুয়ে রাখা চাল ও এক চিম্টে নুন দিয়ে সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হবে। পায়েসের মধ্যে সামান্য নুন দেওয়ার ফলে এর স্বাদ দিগুন বাড়িয়ে দেয়। চাল দেওয়ার পর ঘন ঘন নাড়াতে হবে।
এই রেসিপিতে সুজির চালের জায়গায় গোবিন্দ ভোগ বা বাসমতি চাল ব্যবহার করা যেতে পারে


চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে সিমুই দিয়ে দিতে হবে
চাল সিদ্ধ হওয়ার পর রোস্টেড সিমুই দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। চাল সিদ্ধ সিদ্ধ হয়েছে কি না দেখার জন্য, খুন্তি দিয়ে ২/৩ টে চাল নিয়ে হাত দিয়ে টিপার পর যদি মনে হয় নরম তাহলে বোঝা যাবে সিদ্ধ হয়ে গেছে। সিমুই যদি রোস্ট করা না থাকে তাহলে একটি কড়াইয়ের মধ্যে সাদা তেল বা ঘি দেওয়ার পর সিমুই দিয়ে ভেজে নিতে হবে।


সিমুই সিদ্ধ হয়ে গেলে কনডেন্স মিল্ক ও কাজু, কিসমিস দিতে হবে
সিমুই সিদ্ধ হওয়ার পর কনডেন্স মিল্ক দিয়ে দিতে হবে। ভেজে রাখা কাজু বাদাম, কিসমিস, অল্প অ্যালমণ্ড ও পিস্তা বাদাম দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। কনডেন্স মিল্কের জায়গায় চিনি ব্যবহার করা যাবে। যদি কনডেন্স মিল্ক দেওয়ার পর মিষ্টি কম লাগে তাহলে চিনি বা গুড় মিশিয়ে নিতে হবে।



অবশেষে এলাচ গড়ো দিয়ে দিতে হবে
নামানোর আগে এলাচ গুড়ো দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু পায়েস বা ক্ষীর।
পায়েস বানানোর পর শুকনো ভাব এসে যায় তাই নামানোর সময় একটু তরল রাখতে হয়।


পরিবেশন করার পদ্ধতির
পায়েস তৈরি করার পর একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। পায়েস ছোট একটি পাত্রে নিয়ে চামচ দিয়ে পরিবেশন করুন। এটি হালকা গরম বা ঠান্ডা দুভাবেই পরিবেশন করা যায়।

কাজু বাদাম ও কিসমিসের উপকারিতা
কাজু বাদাম শরীরের গুড কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং ব্যাড কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। কাজু বাদাম শরীরে প্রচুর পরিমানে শক্তির যোগান দেয়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও কপারের গুণাগুনে ভরপুর কাজু বাদাম ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
কিসমিস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি আমাদের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কিসমিস ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে ও সাহায্য করে। শরীরে কিসমিস আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি রক্তে লাল কণিকার পরিমান বাড়ায়।
উপসংহার
পায়েসে ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে তৈরি করা যায়। তাই কখনও মিষ্টি জাতীয় কিছু খাওয়ার ইচ্ছে করলে পায়েস বানিয়ে খেতে পারেন। হঠাৎ ঘরে অথিতি আসলে পায়েস বানিয়ে লুচির সঙ্গে খাওয়াতে পারেন।
পায়েস/ ক্ষীর
পায়েস হলো বাঙালীদের বহু প্রচলিত ও অত্যন্ত সুস্বাদু একটি মিষ্টি জাতীয় খাবার। যে কোন উৎসব যেমন পুজো পার্বণ, জন্মদিন, বিয়ের অনুষ্ঠান, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি আরো নানা অনুষ্ঠানে এটি মোক্ষ ভুমিকা পালন করে। পায়েসের বিভিন্ন প্রকার আছে তবে পায়েসের নাম শুনলে প্রথমত চালের পায়েসের কথা ভাবি।
Ingredients
- গুড়ো দুধ - ১ কাপ
- সুজির চাল - ৫০ গ্রাম (Rice Kheer)
- সিমুই - ৪০ গ্রাম
- কনডেন্স মিল্ক - ২০০ গ্রাম
- তেজপাতা - ২ টি
- আস্ত এলাচ - ৮ - ১০ টি
- কাজু বাদাম - ৩ টেবিল চামচ
- কিসমিস - ৩ টেবিল চামচ
- অ্যালমণ্ড বাদাম - ৭ - ৮ টি (স্বেচ্ছামূলক/Optional)
- পিস্তা বাদাম - ৮ - ৯ টি (স্বেচ্ছামূলক/Optional)
- এলাচ গুড়ো - ১/২ চামচ
- নুন - এক চিম্টে
- জল - ১ লিটার
- তেল, ঘি - সামান্য
Instructions
- প্রথমে একটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত গুড়ো দুধ, কনডেন্স মিল্ক, চাল ও সিমুই নিয়ে নিতে হবে।
- তারপর আরকটি পাত্রে তজপাতা, আস্ত এলাচ, এলাচ গুড়ো, কিসমিস, কাজু বাদাম, পিস্তা বাদাম ও অ্যালমণ্ড বাদাম নিয়ে নিতে হবে।
- এবারে একটি পাত্রে গুড়ো নিয়ে তার মধ্যে অল্প অল্প করে জল ঢেলে দুধ গুলে নিতে হবে।
- এরপর চাল ভালোকরে ধুয়ার পর সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে চালকে মাখিয়ে রাখতে হবে।
- তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে অল্প তেল ও ঘি দিয়ে গরম হওয়ার পর কাজু বাদাম ও কিসমিস ভেজে নিতে হবে।
- কাজু ও কিসমিস ভাজার পর গুলে রাখা দুধ ঢেলে দিতে হবে। আর দুধ ফুটে উঠার জন্য ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।
- দুধ ফুটে উঠার পর তেজপাতা ও এলাচ দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- দুই থেকে তিন মিনিট ফুটানোর পর ধুয়ে রাখা চাল ও এক চিম্টে নুন দিয়ে সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হবে।
- চাল সিদ্ধ হওয়ার পর রোস্টেড সিমুই দিয়ে ৫ মিনিট ফুটিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে।
- সিমুই সিদ্ধ হওয়ার পর কনডেন্স মিল্ক দিয়ে দিতে হবে। ভেজে রাখা কাজু বাদাম, কিসমিস, অল্প অ্যালমণ্ড ও পিস্তা বাদাম দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- নামানোর আগে এলাচ গুড়ো দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: 100 gramsAmount Per Serving: Calories: 197.33 Kcal
