ঝটপট লুচি ও আলুর দম তৈরি করার বিধি | How to make quick recipe of Luchi & Aloor Dom
লুচি ও আলুর দম বাঙালীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় একটি খাবার। এই খাবার অনেকের ঘরে রবিবারের ব্রেকফাস্টে বানানো হয়ে থাকে। তবে লুচি ও আলুর দম তৈরি করা হয় আরো অন্য সময় যেমন বিকেলের জল খাবারে, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, পুজোর ভোগের জন্য।
অনেকেই ভাবতে পারেন লুচি, আলুর দম বানানো ঝামেলার ব্যাপার তবে পদ্ধতি জানা থাকলে যে কোন পদ চট জলদি তৈরি করা যায়। আমাদের ঘরের সবাই লুচি, আলুর দম খেতে ভালোবাসে তাই মাঝে মধ্যেই আমাকে বানাতে হয়।
আলুর দমের জন্য আলু সাধারণত ছোট আকারের আলু ব্যবহার করা হয় তবে ছোট আকারের আলু না থাকলে বড় আকারের আলু দিয়েও তৈরি করা হয়। আলুর দম নিরামিষ ও আমিষ দুভাবেই তৈরি করা যায়। তবে পিঁয়াজ, রসুন ছাড়াও খেতে ভালো হয়। তবে ছোলার ডাল দিয়ে লুচি খাওয়ার ইচ্ছে হলে দেখে নিতে পারেন ছোলার ডাল লেখাটির উপর ক্লিক করে। ছোলার ডালের সহজ রেসিপি শেয়ার করা আছে। প্রাতরাশের আরো কিছু রেসিপি যেমন সুজির ইডলি, পোহা, উপমা, মুলোর পরোটা, পায়েস, মুড়ির মোয়া ইত্যাদি শেয়ার করা আছে দেখে নিতে পারেন।
অনেক সময় কি হয় লুচি ফুলে না শক্ত হয়ে যায় তবে সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে প্রত্যেকটি লুচি ফুলবে আর নরম হবে। অনেকের ময়দা খাওয়া বারন তখন আটা দিয়ে একই পদ্ধতিতে পুরি বানিয়ে খেতে পারেন।
আলুর দমের জন্য লাগবে আলু (ছোট আকারের), পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, ধনেপাতা, দই, হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, নুন, সাদাতেল, হিং, গরম জল, তেজপাতা, এলাচ, দাড়চিনি, শুকনো লঙ্কা, আস্ত জিরে। লুচি বানানোর জন্য লাগবে, ময়দা, সাদাতেল, নুন, চিনি, সুজি, গরম জল (ইষদ উষ্ণ)। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী: (আলুর দমের)
আলু ধুয়ে সিদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে
প্রথমে আলু গুলোকে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর একটি প্রেসার কুকারের মধ্যে আলু, পরিমানমত জল ও অল্প নুন দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে।
আলুর দম বানানোর জন্য সাধারণত: ছোট আকারের আলু ব্যবহার করা হয়। তবে বড় আকারের আলু দিয়েও বানানো হয়।
আলু প্রেসার কুকারে সিদ্ধ করার সময় খেয়াল রাখতে যে আলু নরম ধরনের হলে ১ সিটি আর আলু শক্ত ধরনের তেলের ৩-৪ টি সিটি দেওয়াতে হবে।


পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি ধুয়ে নিতে হবে
তারপর পিঁয়াজ, আদা, রসুনের খোসা ছাড়িয়ে টমেটো, কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে ধনেপাতা কুচি করে নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রে।
নিরামিষ আলুর দম বানাতে হলে শুধু পিঁয়াজ, রসুন বাদ দিয়ে দিতে হবে। আর কাঁচা লঙ্কা কম বেশি প্রত্যেকের ঝাল খাওয়ার উপর নির্ভর করে।

পরিমানমত গুড়ো মশলা নিয়ে নিতে হবে
পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, দই ও নুন নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রে। এই রান্নাতে গুড়ো মশলার জায়গায় বাটা মশলা ও ব্যবহার করা যেতে পারে।

ফোঁড়নের জন্য আস্ত মশলা নিয়ে নিতে হবে
আরেকটি পাত্রে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, এলাচ, দাড়চিনি ও আস্ত জিরে নিয়ে নিতে হবে।কোন সময় যদি সব ধরনের গোটা মশলা না থাকে তখন যা থাকবে তা দিয়ে ফোঁড়ন দিলে হবে।

দইয়ের সাথে গুড়ো মশলা মিশিয়ে নিতে হবে
এরপর দই এর মধ্যে একে একে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো ও সামান্য নুন দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে। দই এর সাথে গুড়ো মশলা মিশিয়ে নিতে বাটা মশলার মত লাগবে খেতে।


খোসা ছাড়িয়ে রাখা সিদ্ধ আলুর মধ্যে ফুটো করে নুন, হলুদ মাখিয়ে নিতে হবে
খোসা ছাড়িয়ে রাখা আলু সিদ্ধর মধ্যে কাটা চামচ দিয়ে একটি করে আলু নিয়ে ফুটো করে নিতে হবে। তারপর হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো ও নুন দিয়ে আলু গুলোকে মাখিয়ে রাখতে হবে।
আলুর মধ্যে ফুটো করার কারণ নুন ও মশলা ভালোভাবে ঢুকবে আলুর মধ্যে।



চুলায় কড়াই বসিয়ে পিঁয়াজ, টমেটো ইত্যাদি ভেজে নিতে হবে
তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা ও অল্প নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা একটু ভেজে তারপর পেষ্ট বানিয়ে কষালে সময় কম লাগে রান্না করতে আর স্বাদ ও বাড়ে খাবারের।

ভাজা পিঁয়াজ, টমেটো ইত্যাদি পেষ্ট বানাতে হবে
তারপর ভেজে রাখা পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা ঠান্ডা হওয়ার পর মিক্সার জারে নিয়ে গ্রাইন্ড করে নিতে হবে। মিক্সার গ্রাইন্ডার না থাকলে পিঁয়াজ, আদা, রসুন ইত্যাদি শীল নোড়া দিয়ে বেটে নিতে হবে।


মশলা মাখানো আলু গুলোকে ভেজে নিতে হবে
এবারে ঐ তেলের মধ্যে মশলা দিয়ে মাখিয়ে রাখা আলু গুলোকে ভালোকরে ভেজে নিতে হবে। আলু যদি নরম ধরনের ও বড় আকারের হয় তাহলে আলু কেটে নুন ও হলুদ দিয়ে ভেজে নিলেই হবে।


কড়াইতে ফোড়ন দিয়ে পিয়াজ, টমেটোর পেষ্ট দিয়ে দিতে হবে
এরপর কড়াইতে পরিমানমত সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর ফোঁড়নের সব মশলা ও হিং দিয়ে দিতে হবে। ফোঁড়নের সব মশলা গরম হওয়ার পর গ্রাইন্ড করে রাখা পিঁয়াজ, টমেটোর পেষ্ট ও অল্প নুন দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।
খাবারে হিং ব্যবহার করলে খাবার হজম করতে সাহাজ্য করে আর খাবারের স্বাদ ও বাড়ায়। তবে হিং পরিমানে কম ব্যবহার করতে হয়।



দই ও মশলার মিশ্রন দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে
পিঁয়াজ, টমেটোর পেষ্ট কষানোর পর দই ও মশলার মিশ্রণ দিয়ে ভালোকরে কষিয়ে নিতে হবে।
যে কোন রান্নাতে যখন দই ব্যবহার করা হবে তখন চুলার আঁচ কমিয়ে রাখতে হবে আর দই সামান্য নুন দিয়ে ফেটিয়ে নিতে হবে।


পরিমানমত গরম জল ও ভাজা আলু দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে
দই ও মশলার মিশ্রণ কষানোর পর পরিমানমত গরম জল দিয়ে ফুটানোর পর ভেজে রাখা আলু ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
রান্নাতে গরম জল ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বাড়ে আর রান্না চট জলদি শেষ হয়।



নামানোর আগে গরম মশলা, ধনে পাতা ও কাঁচা লঙ্কা দিতে হবে
৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটানোর পর আলুর দম ঘন হয়ে আসলে গরম মশলা গুড়ো, ধনে পাতা কুচি ও দুটো কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।




প্রণালী: (লুচির)
পরিমানমত ময়দা নিয়ে নিতে হবে
প্রথমে এক কাপ ময়দা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। যাদের ময়দা খাওয়া বারন তারা আটা দিয়ে বানাতে পারেন। আমি যে পরিমানে লুচি নিয়েছি তাতে ১০ থেকে ১২ লুচি তৈরি করা যায়। তবে আরো বেশি লুচি বানাতে হলে ময়দার পরিমান বাড়িয়ে দিতে হবে।

ময়দা মাখার জন্য উপকরণ নিয়ে নিতে হবে
একটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত সাদাতেল, নুন, চিনি (Powder Sugar) ও সুজি নিয়ে নিতে হবে।
একটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত সাদাতেল, নুন, চিনি (Powder Sugar) ও সুজি নিয়ে নিতে হবে।
চিনিরজায়গায় সুগার ফ্রি পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ময়দার মধ্যে সব উপকরণ দিয়ে ময়ান দিতে হবে
তারপর ময়দার মধ্যে অল্প নুন, চিনি, তেল ও সুজি দিয়ে ভালোকরে হাত দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে যতো সময় পর্যন্ত না ময়দাকে মণ্ডের আকারে গড়া যাচ্ছে।


তারপর ময়দার মধ্যে জল দিয়ে মণ্ড বানাতে হবে
এরপর হালকা গরম জল অল্প অল্প করে ময়দার মধ্যে দিয়ে মাখিয়ে একটি মণ্ড তৈরি করে নিতে হবে। তারপর মণ্ডের উপর তেল লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বা আধ ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে।





এরপর ময়দার মণ্ড থেকে লেচি বানাতে হবে
১৫ মিনিট রাখার পর ময়দার মণ্ডটিকে আরেকটু ডলে নিতে হবে। তারপর ছোট ছোট করে লেচি বানিয়ে নিতে হবে। তারপর অল্প শুকনো আটা বা তেল লেচির মধ্যে লাগিয়ে বেলে নিতে হবে।
লুচির বেলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে লুচির সবদিক যাতে সমান ভাবে বেলা হয়। লুচি সমান ভাবে বেলা না হলে ভাজার সময় ফুলবে না।






তারপর ডুবো তেলে লুচি ভেজে নিতে হবে
তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে পরিমানমত সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর বেলে রাখা লুচি গুলো ভেজে নিতে হবে। একটি পাত্রে লুচি ভেজে রাখতে হবে।
লুচি ভাজার সময় তেল ঠিকমতো গরম হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য ময়দার মণ্ড থেকে এক টুকরো নিয়ে তেলের মধ্যে ছেড়ে দেওয়ার পর যদি ময়দার টুকরো সঙ্গে সঙ্গে উপরে ভেসে উঠে তাহলে বোঝা যাবে তেল ঠিকঠাক গরম হয়েছে।
একটি পাত্রের মধ্যে পেপার বা টিসু পেপার রেখে তার উপর লুচি ভেজে রাখলে অতিরিক্ত তেল টেনে নেবে।



পরিবেশন করার পদ্ধতি
লুচি ও আলুর দম তৈরি করার পর লুচি একটি পাত্রে ও আলুর দম আরেকটি পাত্রে নিয়ে নিতে হবে। লুচি ও আলুর দম একটি বড় আকারের প্লেটের মধ্যে নিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।


আলুর উপকারিতা
আলুর মধ্যে অনেক রকমের গুণাগুন রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। আলুতে থাকা পটাসিয়াম হাইপারটেনশন থেকে দূরে রাখে।
যারা ওজন বাড়াতে চাইছেন, তাদের জন্য আলু খুবই উপকারী। আলুর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
আলু ফাইবার জাতীয় খাদ্য, যা হজমে সাহায্য করে। তাই পেটের সমস্যায় খেতে পারেন আলু। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও দারুণ কাজ করে আলু।
আলোতে আছে পটাসিয়াম, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি। গেঁটে বাত ও আর্থ্রাইটিসের রোগীরা আলুর পুষ্ঠিগুন থেকে উপকার পেয়ে থাকেন।
ময়দার উপকারিতা
ময়দানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্ঠিগুন যা আমাদের শরীরের পুষ্ঠির চাহিদা পূরণ করে। এতে থাকা শর্করা, সুগার, ফাইবার, চর্বি উপাদান আমাদের শরীরের পুষ্ঠির চাহিদা পূরণ করে।
এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল যা শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ময়দাতে থাকে ভিটামিন এ, যা চোখের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
উপসংহার
লুচি, আলুর দম অথিতি আপ্যায়নের জন্য দারুণ একটি খাবার। এই পদ নিরামিষ ও আমিষ দুভাবেই ভালো লাগে খেতে। রবিবারের সকালে ব্রেকফাস্টে এই খাবার থাকলে আর কোন কথা হবে না। তবে শুধু রবিবার কেন যে কোন সময় ইচ্ছে করলে বানিয়ে ফেলতে পারেন ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে।
লুচি আলুর দম
লুচি ও আলুর দম বাঙালীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় একটি খাবার। অনেকের ঘরে রবিবারের ব্রেকফাস্টে বানানো হয়ে থাকে। লুচি ও আলুর দম তৈরি করা হয় বিকেলের জল খাবারে, ঘরোয়া অনুষ্ঠানে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, পুজোর ভোগের জন্য।
Ingredients
- আলুর দমের:
- আলু (ছোট আকারের) - ৫০০ গ্রাম
- পিঁয়াজ - ১ টি
- টমেটো - ১ টি
- আদা - ১ টুকরো
- রসুন - ৩-৪ কোয়া
- কাঁচা লঙ্কা - ৫-৬ টি
- ধনেপাতা - ১ মুঠো
- দই - ২ টেবিল চামচ
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- লঙ্কা গুড়ো - ১ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১ চামচ
- ধনে গুড়ো - ১ চামচ
- গরম মশলা গুড়ো - ১ চামচ
- নুন - স্বাদমত
- সাদাতেল - পরিমানমত
- হিং - ১ চিম্টে
- গরম জল
- ফোঁড়নের জন্য:
- তেজপাতা - ২ টি
- এলাচ - ২ টি
- দাড়চিনি - ১ টুকরো
- শুকনো লঙ্কা ২ টি
- আস্ত জিরে - ১/২ চামচ
- লুচির:
- ময়দা - ১ কাপ
- সাদাতেল - পরিমানমত
- নুন - ১/২ চামচ
- চিনি - ১ চামচ (পাউডার)
- সুজি - ১ চামচ
- গরম জল (ইষদ উষ্ণ) - পরিমানমত
Instructions
আলুর দমের
- প্রথমে আলু গুলোকে ভালোকরে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর একটি প্রেসার কুকারের মধ্যে আলু, পরিমানমত জল ও অল্প নুন দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। আলু গুলো ঠান্ডা হওয়ার পর খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে।
- তারপর পিঁয়াজ, আদা, রসুনের খোসা ছাড়িয়ে টমেটো, কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে ধনেপাতা কুচি করে নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রে।
- পরিমানমত হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো, গরম মশলা গুড়ো, দই ও নুন নিয়ে নিতে হবে একটি পাত্রে।
- আরেকটি পাত্রে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা, এলাচ, দাড়চিনি ও আস্ত জিরে নিয়ে নিতে হবে।
- এরপর দই এর মধ্যে একে একে হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো, জিরে গুড়ো, ধনে গুড়ো ও সামান্য নুন দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে।
- খোসা ছাড়িয়ে রাখা আলু সিদ্ধর মধ্যে একটি কাটা চামচ দিয়ে ফুটো করে নিতে হবে। তারপর হলুদ গুড়ো, লঙ্কা গুড়ো ও নুন দিয়ে আলু গুলোকে মাখিয়ে রাখতে হবে।
- তারপর চুলায় কড়াই বসিয়ে সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা ও অল্প নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
- তারপর ভেজে রাখা পিঁয়াজ, টমেটো, আদা, রসুন ও কাঁচা লঙ্কা ঠান্ডা হওয়ার পর মিক্সার জারে নিয়ে গ্রাইন্ড করে নিতে হবে।
- এবারে ঐ তেলের মধ্যে মশলা দিয়ে মাখিয়ে রাখা আলু গুলোকে ভালোকরে ভেজে নিতে হবে।
- এরপর কড়াইতে পরিমানমত সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর ফোঁড়নের সব মশলা ও হিং দিয়ে দিতে হবে। ফোঁড়নের সব মশলা গরম হওয়ার পর গ্রাইন্ড করে রাখা পিঁয়াজ, টমেটোর পেষ্ট ও অল্প নুন দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।
- পিঁয়াজ, টমেটোর পেষ্ট কষানোর পর দই ও মশলার মিশ্রণ দিয়ে ভালোকরে কষিয়ে নিতে হবে।
- দই ও মশলার মিশ্রণ কষানোর পর পরিমানমত গরম জল দিয়ে ফুটানোর পর ভেজে রাখা আলু ও স্বাদমত নুন দিয়ে ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে।
- ৫ থেকে ৭ মিনিট ফুটানোর পর আলুর দম ঘন হয়ে আসলে গরম মশলা গুড়ো, ধনে পাতা কুচি ও দুটো কাঁচা লঙ্কা দিয়ে ১ থেকে ২ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে নিতে হবে।
লুচি বানানোর:
- প্রথমে এক কাপ ময়দা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।
- একটি পাত্রে পরিমানমত সাদাতেল, নুন, চিনি (Powder Sugar) ও সুজি নিয়ে নিতে হবে।
- তারপর ময়দান মধ্যে অল্প নুন, চিনি, তেল ও সুজি দিয়ে ভালোকরে হাত দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে যতো সময় পর্যন্ত না ময়দানে মণ্ডের আকারে গড়া যাচ্ছে।
- এরপর হালকা গরম জল অল্প অল্প করে ময়দার মধ্যে দিয়ে মাখিয়ে একটি মণ্ড তৈরি করে নিতে হবে। তারপর মণ্ডের উপর তেল লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বা আধ ঘণ্টার জন্য রেখে দিতে হবে।
- ১৫ মিনিট রাখার পর ময়দার মণ্ডটিকে আরেকটু ডলে নিয়ে ছোট ছোট করে লেচি বানিয়ে নিতে হবে। তারপর অল্প শুকনো আটা বা তেল লেচির মধ্যে লাগিয়ে বেলে নিতে হবে।
- তারপর চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে পরিমানমত সাদাতেল দিয়ে গরম হওয়ার পর বেলে রাখা লুচি গুলো ভেজে নিতে হবে ।
Nutrition Information:
Yield: 4-5 Serving Size: 1 Luchi, 141g Aloor DomAmount Per Serving: Calories: 95, 240
