সুজির উপমা সব্জি দিয়ে কিভাবে তৈরি করবেন | How To Make Semolina Upma With Vegetables
উপমা প্রাতরাশের জন্য দারুণ সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এটি দক্ষিণ ভারতের খুব জনপ্রিয় একটি খাবার। সুজি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরি করা হয় তবে সুজির হালুয়াই বেশি বানানো হত আমাদের ঘরে। সুজি দিয়ে তৈরি খাবার ছোট, বড় সবাই খেতে পারে। এটি টক, ঝাল ও মিষ্টি তিনটি স্বাদের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে খুবই সুস্বাদু লাগে খেতে।
সুজির উপমা সকালের জলখাবারে শুধু না বিকেলের টিফিন হিসেবে খাওয়া যায়। এটি সব্জি দিয়ে ভালো লাগে খেতে আবার সব্জি ছাড়াও খেতে ভালো লাগে। আমি যখন প্রথম উপমা বানিয়ে ছিলাম তখন এখনের মত এত ভালো হয় নি। কয়েকবার বানানোর পর এটির স্বাদ ও গঠন ঠিক হয়েছে। যে কোন পদ রান্না করতে করতে বোঝা যায় যে কি রকম রান্না করলে ভালো হবে।
এটি তৈরি করার সময় আমার দেওয়া টিপস গুলো দেখে করলে যথাযথ ভাবে উপমা বানানো যাবে। মহারাষ্ট্রে দক্ষিণ ভারতের খাবারের খুব চাহিদা। তাই যে কোন রেস্টুরেন্টে বা রাস্তার দোকানে উপমা, ইডলি, দোসা, বড়া ইত্যাদি আর বিভিন্ন ধরনের চাটনি পাওয়া যায়। আমাদের ঘরের সবাই দক্ষিণি খাবার ভালোবাসে। আমরা কখনও বাইরে ব্রেকফাস্ট করতে গেলে যে যার পছন্দ মত ইডলি, বড়া, দোসা, উপমা খেয়ে থাকি। ব্রেকফাস্টে একটু অন্য রকমের পদ খেতে হলে সুজির ইডলি, সিমুইয়ের উপমা, পোহা এইগুলো বানিয়ে দেখতে পারেন শেয়ার করা আছে।
সুজির উপমা তৈরি করার জন্য লাগবে সুজি, পিঁয়াজ, গাজর, মটরশুটি, আদা, কাঁচা লঙ্কা, কারিপাতা, ধনেপাতা, লেবু, কাজুবাদাম, সাদাতেল, নুন, চিনি, কালো সর্ষে, আস্ত জিরে, হিং, চানা ডাল ও জল। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
সুজি, কাজুবাদাম ও তেল নিয়ে নিতে হবে
প্রথমে একটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত সুজি, সাদাতেল ও কাজুবাদাম নিয়ে নিতে হবে। উপমা বানানোর জন্য ভাঙ্গা কাজুবাদাম ব্যবহার করা হয়েছে। আস্ত কাজুবাদাম ১০ থেকে ১৫ টি ব্যবহার করলে হবে। তবে যদি কাজুবাদাম না থাকে তাহলে চিনে বাদাম ব্যবহার করা যাবে।
আমি উপমা তৈরি করতে রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করেছি তবে তেলের জায়গায় ঘি ও ব্যবহার করা যায়।

পরিমানমত নুন, চিনি, কালো সর্ষে, আস্ত জিরে, চানা ডাল ও হিং নিয়ে নিতে হবে
আরেকটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত নুন, চিনি, কালো সর্ষে, আস্ত জিরে, চানা ডাল ও হিং নিয়ে রাখতে হবে। আস্ত জিরে, চানাডাল যদি না থাকে তবে কালো সর্ষে ফোঁড়ন দিলে হবে। কিন্ত কালো সর্ষে ও কারিপাতা উপমাতে না দিলে ভালো লাগবে না খেতে।

পিঁয়াজ, আদা ও গাজর ইত্যাদির খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে কেটে রাখতে হবে
তারপর একে একে পিঁয়াজ, আদা, গাজরের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে কেটে, মটরশুটি, কাঁচা লঙ্কা, কারিপাতা, ধনেপাতা ও লেবু ধুয়ে কেটে রাখতে হবে। উপমা বানাতে আমি গাজর ও মটরশুটি ব্যবহার করেছি তবে আলু, বিন্স, কেপ্সিকাম ও ব্যবহার করা পারে। আর সব্জি ছাড়াও উপমা খেতে ভালো হয়।

চুলায় কড়াই বসিয়ে অল্প তেল দিয়ে সুজি ভেজে নিতে হবে
এবারে চুলায় কড়াই বসিয়ে তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর সুজি দিয়ে ভেজে নিতে হবে ২ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত। সুজি ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে নিতে হবে। সুজি ভাজতে সময় অল্প সাদাতেল ব্যবহার করেছি তবে তেল ছাড়া ও সুজি শুকনো কড়াইয়ে দিয়ে ভেজে নিলে হবে।
সুজি ভাজার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে চুলার আঁচ একদম কম থাকে। চুলার আঁচ বেশি থাকলে সুজি পূড়ে যাবে।



চুলায় পেন বসিয়ে তেল, ফোঁড়ন ও কাজু ও চানা ডাল ভেজে নিতে হবে
তারপর চুলা জ্বালিয়ে একটি পেন বসিয়ে পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর কালো সর্ষে, জিরে, হিং, কারিপাতা, চানা ডাল ও কাজুবাদাম দিয়ে ভেজে নিতে হবে। আমি খোসা ছাড়ানো মাস কলাইয়ের ডাল ব্যবহার করিনি।
কিছু কিছু পদ রান্না করতে হিং ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ বাড়ায় আর খাবার হজম করতে সাহাজ্য করে। তবে হিং সবসময় পরিমান বুঝে ব্যবহার করতে হবে।
তবে মাস কলাইয়ের ডাল (Urad Dal) ১ চামচ ব্যবহার করা যেতে পারে। কাজুবাদাম না থাকলে চিনে বাদাম ব্যবহার করতে পারেন।



পিঁয়াজ, আদা, কাঁচা লঙ্কা ইত্যাদি দিয়ে ভেজে নিতে হবে
তারপর পিঁয়াজ কুচি, আদা কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, টুকরো করা গাজর, মটর শুটি ও সামান্য নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে ৩ থেকে ৪ মিনিট পর্যন্ত। গাজর ও মটর শুটি ছাড়াও অন্যান্য সব্জি যেমন আলু, বিন্স, কেপ্সিকাম ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে।



গাজর, মটরশুটি ও পিঁয়াজ ভাজা হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল দিতে হবে
তিন থেকে চার মিনিট ভাজার পর দুই থেকে তিন কাপের মত জল দেওয়ার পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ফুটিয়ে নিতে হবে। গাজর ও মটরশুটি কাঁচা তাই জল ফুটে উঠার পর আরো এক থেকে দুই মিনিট ফুটিয়ে নিয়েছি। কারণ মটরশুটি ও গাজর সিদ্ধ হতে সময় লাগে। আর যদি সিদ্ধ করা সব্জি ব্যবহার করা হয় তাহলে অতিরিক্ত ফুটানোর প্রয়োজন নেই।


ভেজে রাখা সুজি, নুন ও চিনি দিয়ে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে
জল দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়ার পর ভেজে রাখা সুজি অল্প অল্প করে ঢালতে হবে আর নাড়াতে হবে। তারপর স্বাদমত নুন ও চিনি দিয়ে নাড়িয়ে ঢেকে দিতে হবে ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য। সুজি ফুটন্ত জলের মধ্যে ঢালার সময় নাড়াতে থাকতে হবে তা না করলে সুজি দলা পাকিয়ে যাবে।




তারপর পরিমানমত লেবুর রস দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে
তারপর ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দিয়ে পরিমানমত লেবুর রস দিয়ে আবার ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে। লেবুর রস উপমার মধ্যে মেশালে টক হবে না তবে স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।

অবশেষে উপমার মধ্যে ধনেপাতা কুচি দিয়ে মিশিয়ে নিতে হবে
লেবুর রস দিয়ে মেশানোর পর ধনেপাতা কুচি দিয়ে নাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর চুলার আঁচ বন্ধ করে ঢেকে রাখতে হবে। সবার শেষে ধনে পাতা কুচি মেশালে ধনেপাতার সুন্দর গন্ধ খাবারকে লোভনীয় করে তুলে।


পরিবেশন করার পদ্ধতি
উপমা তৈরি করার পর একটি প্লেটের মধ্যে নিয়ে চামচ দিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। উপমার সঙ্গে আরও সাম্বার, নারকেলের চাটনি, চা, কফি ও হরলিক্স পরিবেশন করতে পারেন। স্বাস্থ্যকর এই সুজির উপমা প্রাতরাশের জন্য দারুণ একটি পদ। ঘরে আত্মীয় আসলে এটি বানিয়ে চাটনি বা চায়ের সাথে পরিবেশন করতে পারেন।

সুজির উপকারিতা
সুজি খেলে আমাদের শরীরের অনেক উপকার হয়। সুজির মধ্যে কি কি উপকারিতা রয়েছে তা জেনে নেওয়া যাক।
সুজি মানষের শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। সুজি ফাইবার যুক্ত খাদ্য হওয়ার জন্য এটি আমাদের পেটকে ভর্তি রাখে যার ফলে অতিরিক্ত খাবার খেতে হয় না।
সুজি আয়রনের অভাব পূরণ করে অ্যানিমিয়া রোগের ঝুঁকি কমায়। মানব দেহ সচল থাকার জন্য আয়রনের খুব প্রয়োজন। সুজির মধ্যে রয়েছে আয়রন তাই সুজি খেলে আমাদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হবে।
ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি সিক্স ফাইবার, জিংক সহ নানা উপাদান রয়েছে সুজির মধ্যে। এই উপাদান গুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তাই আমাদের শরীরের পুষ্ঠির জন্য সুজি খাওয়া দরকার।
বৈজ্ঞানিক সুত্রে জানা গেছে নিয়াসিন নামক উপাদান রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। সুজির মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি থ্রি অর্থাত নিয়াসিন রয়েছে। তাই সুজি খেলে শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
উপসংহার
সুজির উপমা প্রাতরাশের সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। তবে এটি অন্য সময় ও খাওয়া যেতে পারে। সুজির উপমা বানানোর জন্য মোটা ধরনের সুজি ব্যবহার করতে হবে। মাঝে মধ্যে সব্জি দিয়ে বা সব্জি ছাড়া এইভাবে সুজির উপমা বানিয়ে খেতে পারেন।
সুজির উপমা
উপমা প্রাতরাশের জন্য দারুণ সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এটি দক্ষিণ ভারতের খুব জনপ্রিয় একটি খাবার। সুজি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পদ তৈরি করা হয় তবে সুজির হালুয়াই বেশি বানানো হত আমাদের ঘরে। সুজি দিয়ে তৈরি খাবার ছোট, বড় সবাই খেতে পারে। এটি টক, ঝাল ও মিষ্টি তিনটি স্বাদের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে খুবই সুস্বাদু লাগে খেতে।
Ingredients
- সুজি - ১ কাপ
- পিঁয়াজ - ১ টি
- গাজর - ১/২ টি
- মটরশুটি - ২ মুঠো
- আদা - ১ চামচ
- কাঁচা লঙ্কা - ২ টি
- কারিপাতা - ১০- ১২ টি
- ধনেপাতা - ২ মুঠো
- লেবু - ১/২ টি
- কাজুবাদাম(ভাঙ্গা) - ২ মুঠো
- সাদাতেল - পরিমানমত
- নুন - স্বাদমত
- চিনি - ১/৪ কাপ
- কালো সর্ষে - ১ চামচ
- আস্ত জিরে - ১/২ চামচ
- হিং - ১ চিম্টে
- চানা ডাল - ১ টেবিল চামচ
- জল - পরিমানমত
Instructions
- প্রথমে একটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত সাদাতেল, এক কাপ সুজি ও কাজুবাদাম নিয়ে রাখতে হবে।
- আরেকটি পাত্রের মধ্যে পরিমানমত নুন, চিনি, কালো সর্ষে, আস্ত জিরে, চানা ডাল ও হিং নিয়ে রাখতে হবে।
- তারপর একে একে পিঁয়াজ, আদা, গাজরের খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে কেটে, মটরশুটি, কাঁচা লঙ্কা, কারিপাতা, ধনেপাতা ও লেবু ধুয়ে কেটে রাখতে হবে।
- এবারে চুলায় কড়াই বসিয়ে তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর সুজি দিয়ে ভেজে নিতে হবে ২ থেকে ৩ মিনিট পর্যন্ত। সুজি ভাজা হয়ে গেলে একটি পাত্রে তুলে নিতে হবে।
- তারপর চুলা জ্বালিয়ে একটি পেন বসিয়ে পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর কালো সর্ষে, জিরে, হিং, কারিপাতা, চানা ডাল ও কাজুবাদাম দিয়ে ভেজে নিতে হবে।
- তারপর পিঁয়াজ কুচি, আদা কুচি, কাঁচা লঙ্কা কুচি, টুকরো করা গাজর, মটর শুটি ও সামান্য নুন দিয়ে ভেজে নিতে হবে ৩ থেকে ৪ মিনিট পর্যন্ত।
- তিন থেকে চার মিনিট ভাজার পর দুই থেকে তিন কাপের মত জল দেওয়ার পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে ফুটিয়ে নিতে হবে।
- জল দিয়ে ফুটিয়ে নেওয়ার পর ভেজে রাখা সুজি অল্প অল্প করে ঢালতে হবে আর নাড়াতে হবে। তারপর স্বাদমত নুন ও চিনি দিয়ে নাড়িয়ে ঢেকে দিতে হবে ২ থেকে ৩ মিনিটের জন্য।
- তারপর ঢাকনা খুলে নাড়িয়ে দিয়ে লেবুর রস দিয়ে আবার ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে।
- লেবুর রস দিয়ে মেশানোর পর ধনেপাতা কুচি দিয়ে নাড়িয়ে নিতে হবে। তারপর চুলার আঁচ বন্ধ করে ঢেকে রাখতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: 155 gramsAmount Per Serving: Calories: 132 cal
