ছোলার ডাল ১৫ মিনিটে কিভাবে তৈরি করবেন | How to Cook Cholar Dal (Chana Dal) in 15 Minutes
ছোলার ডাল যে শুধু খেতে ভালো তাই না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। লুচি ছোলার ডাল এই খাবারটি বাঙালীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। প্রতিদিন এই ডাল রান্না করা হয় না তবে প্রায়ই নানা ধরনের অনুষ্ঠানে ছোলার ডাল রান্না করা হয়। লুচি বা রুটি দিয়ে ছোলার ডাল খেতে হলে লুচি ও আলুর দম, রুটির রেসিপি শেয়ার করা আছে দেখে বানিয়ে নিতে পারেন।
সবাইতো এই ডাল রান্না করে থাকেন যে যার নিজের পদ্ধতিতে তবে আমার মনে হয় এখানে যেভাবে দেখানো হয়েছে এই পদ্ধতিতে রান্না করলে সময়তো কম লাগবেই আর স্বাদ ও কোন অংশে কম হবে না। যে ধরনের রান্না করতে আলাদা করে ফোঁড়ন দেওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে তড়কা পেন ও প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে কম সময়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যেতে পারে। এখানে এই ডাল রান্না করার সময় পিঁয়াজ, রসুন ব্যবহার করা হয় নি।
পিঁয়াজ, রসুন ছাড়াও এই ডাল খেতে দারুণ সুস্বাদু লাগে খেতে। পূজো, জন্মদিন, বিয়ের অনুষ্ঠান বা সকালের খাবারে প্রায়ই এই ডাল বানানো হয়। এই ডাল লুচি, রুটি, পুরি ও পরটার সাথে যেমন ভালো লাগে তেমনই ভাতের সাথেও ভালো লাগে খেতে।
এই ডাল শুধুমাত্র খেতে ভালো বা প্রচুর পুষ্ঠিগুন আছে তাই নয় সৌন্দর্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ছোলার ডালের ভূমিকা কম নয়। চুলে পুষ্ঠি যোগাতে এই ডাল সাহায্য করে। ছোলার ছাতু খুশকি দুর করতে সাহায্য করে। ছোলার ডাল আছে ভিটামিন বি ৬ যা চুল গজাতে খুব ভাল কাজ করে। এই ডাল দিয়ে নানা ধরনের ফেসপ্যাক (Face Pack) ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত কাঁচা ছোলা বা ছোলার ডাল খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। ব্রেকফাস্টের আরো কিছু আইটেম শেয়ার করা আছে সেগুলি হল সুজির উপমা, সিমুইয়ের উপমা, সুজির ইডলি, মুলোর পরোটা, পায়েস, মুড়ির মোয়া এইগুলোর রেসিপি দেখে বানাতে পারেন।
ছোলার ডাল, টমেটো, আদা বাটা, নারকেলের টুকরো, কাঁচা লঙ্কা, হলুদ গুড়ো, জিরে গুড়ো, ভাজা মশলা, নুন, সাদাতেল, আস্ত জিরে, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী
প্রথমে ডালকে ভালোভাবে ধুয়ে পরিস্কার জল দিয়ে ২ থেকে ৩ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। ডাল সবসময় ভিজিয়ে রেখে রান্না করলে তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয় আর পেটে গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

টমেটো, আদা, কাঁচা লঙ্কা ও নারকেল কেটে বেটে তৈরি করে নিতে হবে
আদার খোসা ছাড়িয়ে ধুয়ে বেটে নিতে হবে বা মিহি করে থেতো করে নিলে হবে। নারকেলের টুকরো করে তেল দিয়ে ভেজে নিতে হবে। টমেটো ধুয়ে চৌক করে কেটে নিতে হবে। কাঁচা লঙ্কা ধুয়ে চিরে রাখতে হবে।

গুড়ো মশলা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে
হলুদ গুড়ো, জিরে গুড়ো, ভাজা মশলা, নুন, আস্ত জিরে, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। এখানে ভাজা মশলা ধনে, জিরে, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, এলাচ, লবঙ্গ, দাড়চিনি শুকনো কড়াইতে ভেজে গুড়ো করে নেওয়া হয়েছে।

কুকারে তেল দিয়ে আদা বাটা ও টমেটো ভেজে নিতে হবে
চুলা জ্বালিয়ে প্রেসার কুকার বসিয়ে গরম করে নিতে হবে। তারপর পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর টমেটোর টুকরো ও আদা বাটা দিয়ে ২ মিনিট ধরে ভেজে নিতে হবে কম আঁচে। আদা ভাজার সময় যদি জ্বলে যায় তাহলে পুরো ডাল তেতো হয়ে যাবে।
রান্নাতে আদা ব্যবহার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে আদা যেন পরিমান থেকে বেশি ব্যবহার করা না হয়। আদা যেন বেশি ভাজা করা না হয়। আদার পরিমানে বেশি দিলে আর বেশি ভাজা করলে যে কোন তরকারি তেতো হয়ে যেতে পারে।

ছোলার ডাল কুকারে দিয়ে ভেজে নিতে হবে কম আঁচে
ভিজিয়ে রাখা ছোলার ডাল জল ঝরিয়ে নিতে হবে একটি ঝাঝরিতে নিয়ে। এবারে জল ঝরানো ছোলার ডাল কুকারে দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট আদা ও টমেটোর সাথে ভেজে নিতে হবে। জল সহ ডাল কুকারে দিয়ে দিলে ভাজা হবে না সিদ্ধ হয়ে যাবে।

ডাল ভাজা হয়ে গেলে তাতে পরিমানমত গরম জল ও গুড়ো মশলা দিয়ে দিতে হবে
ছোলার ডাল ২-৩ ভাজা হয়ে গেলে পরিমানমত গরম জল, হলুদ গুড়ো, জিরে গুড়ো, নুন, ভেজে রাখা নারকেলের টুকরো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর এক সিটি দেওয়ার পর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে।
ডাল যেহেতু ভেজানো ছিল আর গরম জল ব্যবহার করা হয়েছে সেজন্য একটার বেশি সিটি দেওয়ানোর দরকার নেই। বেশি সিটি দেওয়ালে ডাল গলে যাবে আর ডাল গলে গেলে ভালোলাগবে না খেতে।


এক সিটি দেওয়ার পর ৫ মিনিট অপেক্ষা করে কুকারের ঢাকনা খুলে একটু ফুটিয়ে নিতে হবে
কুকারে এক সিটি দেওয়ার পর চুলা বন্ধ করে দিতে আর কুকারটি চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। তারপর পাচঁ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে কুকারের ভাপ বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। এরপর কুকারের ঢাকনা খুলে চুলায় বসিয়ে একটু ফুটিয়ে নিতে হবে।


এবারে ফোঁড়ন দেওয়ার জন্য চুলায় তড়কা পেন বসিয়ে দিতে হবে
ডালে ফোঁড়ন দেওয়ার জন্য তড়কা পেন বসিয়ে দিতে হবে চুলায়। তড়কা পেন একটু গরম হওয়ার পর পরিমানমত তেল দিয়ে গরম করে নিতে হবে। তেল গরম হওয়ার পর শুকনো লঙ্কা, জিরে ও তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে। এইখানে ফোঁড়নের মধ্যে হিং(Asafoetida) ব্যবহার করা হয়নি। সামান্য পরিমানে হিং ব্যবহার করলে ভালো লাগবে খেতে।

জিরে, তেজপাতা ও শুকনো লঙ্কার ফোঁড়ন ডালের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে
ফোঁড়নের উপকরণ গুলি গরম তেলের মধ্যে দেওয়ার পর যখন জিরে, শুকনো লঙ্কার রং বদলাতে শুরু করবে ফোড়ন ডালের মধ্যে ঢেলে দিতে হবে। ফোঁড়ন দেওয়ার পর নাড়িয়ে দিয়ে একটু সময় ফুটিয়ে নিতে হবে।
একটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে ফোঁড়ন যেন পুড়ে না যায়। ফোঁড়ন পুড়ে গেলে তরকারির স্বাদ হয়ে যায়।


অবশেষে ভাজা মশলা ও চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিতে হবে ডালের মধ্যে
ফোঁড়ন দেওয়ার পর পরিমানমত ভাজা মশলা এবং চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নেড়ে মধ্যম আঁচে ২ মিনিট ফুটানোর পর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে ও একটি পাত্রের মধ্যে তুলে নিতে হবে।


পরিবেশন করার পদ্ধতি
ছোলার ডাল রান্না করার পর একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে। এটি লুচি, পুরি, পরোটা রুটি ও ভাতের সঙ্গে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে।
ঘরে অথিতি আসলে বা নিজেদের জন্য এইভাবে চটজলদি ছোলার ডাল বানিয়ে পরিবেশন করুন।

ছোলার ডালের উপকারিতা
ছোলার ডালে যেহেতু প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে ফলে সামান্য খেলেই পেট ভরে যায় তাই সারাক্ষণ খিদে পায় না এবং ওজন বাড়ারও আশঙ্কা থাকে না। এইজন্যে ছোলার ডাল আমাদের খাবারে রাখা দরকার।
এই ডালের মধ্যে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের সাথে আরও নানা উপাদান রয়েছে যা হার্ট সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ছোলার ডালের মধ্যে রয়েছে ফলেট ও ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় উপাদান। ফলেট ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। এরজন্য স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা অনেকটা কম হয়।
মানব দেহে দু ধরনের কোলেস্টেরল থাকে, একটি ভালো অন্যটি খারাপ। এই ছোলার ডাল খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিন যদি আধ কাপ করে কাঁচা ছোলা, সেদ্ধ ছোলা বা ছোলার ডাল (Chana Dal) খাওয়া যায় তাহলে নাকি কোলেস্টেরলের মাত্রা এমনিতেই কমে যায় বিশেষজ্ঞদের মতে।
ছোলার ডাল আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব পূরণ করে। বাড়ন্ত বাচ্চাদের নিয়মিত অন্যান্য আহারের সঙ্গে ছোলার ডালও খাওয়া দরকার নিউট্রিশনিস্টদের মতে। এতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসও কোন ময়লা জমতে পারে না, ফলে সারাদিন এর থেকে যথেষ্ট এনার্জি পাওয়া যায়।
উপসংহার
এই ছোলার ডালের রিসিপিটি বাঙালীদের মধ্যে অতি জনপ্রিয়। এটি জন্মদিনের অনুষ্ঠান, ঘরোয়া পূজো, বিয়ে বাড়িতে, দুর্গা পুজো বা সকাল বেলার খাবারে বানানো হয়ে থাকে। এই ডাল লুচি ও ভাত দুটোর সাথেই খাওয়া যায়। এটি প্রত্যেকদিন রান্না করা হয় না তবে নানা ধরনের অনুষ্ঠানে বানানো হয়ে থাকে। এরজন্য এই ডালের রেসিপিটি কম সময়ে সহজ পদ্ধতিতে দেখানো হয়েছে।
ছোলার ডাল
ছোলার ডাল যে শুধু খেতে ভালো তাই না, এটি স্বাস্থ্যের জন্যও খুব উপকারি। লুচি ছোলার ডাল এই খাবারটি বাঙালীদের মধ্যে খুব জনপ্রিয়। প্রতিদিন এই ডাল রান্না করা হয় না তবে প্রায়ই নানা ধরনের অনুষ্ঠানে ছোলার ডাল রান্না করা হয়। সবাইতো এই ডাল রান্না করে থাকেন যে যার নিজের পদ্ধতিতে তবে আমার মনে হয় এখানে যেভাবে দেখানো হয়েছে এই পদ্ধতিতে রান্না করলে সময়তো কম লাগবেই আর স্বাদ ও কোন অংশে কম হবে না। যে ধরনের রান্না করতে আলাদা করে ফোঁড়ন দেওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে তড়কা পেন ও প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে কম সময়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যেতে পারে।
Ingredients
- ছোলার ডাল - ১ কাপ
- টমেটো - ১ টি
- আদা বাটা - ১ টেবিল চামচ
- নারকেলের টুকরো - ১ টেবিল চামচ (ভাজা)
- কাচা লঙ্কা - ৬-৭ টি
- হলুদ গুড়ো - ১/২ চামচ
- জিরে গুড়ো - ১/২ চামচ
- ভাজা মশলা - ১ চামচ (ধনে, জিরে, শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, এলাচ, দাড়চিনি, লবঙ্গ)
- নুন - পরিমানমত
- সাদাতেল - পরিমানমত
- আস্ত জিরে - ১/২ চামচ
- শুকনো লঙ্কা - ২ টি
- তেজপাতা - ২ টি
Instructions
- প্রথমে ছোলার ডালকে ধুয়ে পরিস্কার জল দিয়ে 2-3 ঘন্টার জন্য ভিজিয়ে রাখতে হবে
- তারপর একটি প্লেটের মধ্যে আদা বাটা, নারকেলের টুকরো ভাজা, টমেটোর টুকরো ও কাঁচা লংকা নিয়ে নিতে হবে।
- আরেকটি প্লেটের মধ্যে হলুদ গুড়ো, জিরে গুড়ো, ভাজা মশলা, নুন, আস্ত জিরে, শুকনো লঙ্কা ও তেজপাতা নিয়ে নিতে হবে।
- চুলায় প্রেসার কুকার বসিয়ে তাতে পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর টমেটোর টুকরো ও আদা বাটা দিয়ে ২ মিনিট ধরে ভেজে নিতে হবে।
- এবারে জল ঝরানো ছোলার ডাল দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট কম আঁচে ভেজে নিতে হবে।
- ২-৩ মিনিট পর পরিমানমত গরম জল, হলুদ গুড়ো, জিরে গুড়ো, নুন, ভাজা নারকেলের টুকরো দিয়ে নেড়ে প্রেসার কুকারের ঢাকনা বন্ধ করে এক সিটি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
- এক সিটি দেওয়ার পর চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট অপেক্ষা করে কুকারের ঢাকনা খুলে দেখে নিতে হবে ডাল সিদ্ধ হয়েছে কি না। তারপর চুলা জ্বালিয়ে ডাল একটু সময় ফুটিয়ে নিতে হবে।
- এরপর ফোঁড়নের জন্য একটি পেন চুলায় বসিয়ে তাতে পরিমানমত তেল দিয়ে গরম হওয়ার পর শুকনো লঙ্কা, জিরে, তেজপাতা দিয়ে দিতে হবে।
- ফোঁড়নের রং যখন বদলাতে শুরু করবে বা ফোঁড়ন থেকে সুন্দর গন্ধ বেরিয়ে আসার পর ডালের মধ্যে ঢেলে দিয়ে একটু নাড়িয়ে দিতে হবে।
- তারপর ভাজা মশলা ও চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে নাড়িয়ে আরো ২ মিনিট ফুটানোর পর চুলা বন্ধ করে একটি পাত্রের মধ্যে নিয়ে নিতে হবে।
Nutrition Information:
Amount Per Serving: Calories: 364 Cal per 100 Grams
