মুচমচে মুড়ির মোয়ার রেসিপি | Crunchy Puffed Rice Laddu Recipe
মুড়ির মোয়া বানানোর প্রথা অনেক আগে থেকেই চলে আসছে বাঙালীদের ঘরে। যে কোন উৎসব, পুজো, পার্বনে অন্যান্য মোয়া, মিষ্টির সাথে মুড়ির মোয়া ও বানানো হয়ে থাকে। অথিতিদের আপ্যায়নে মুড়ির মোয়া ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি সকাল বেলা চা এর সাথে বা বিকেলের জলখাবারে খাওয়া হয়।
মোয়া ঘরে বানানো থাকলে সারাদিনের মধ্যে কখনও অল্প কিছু খাওয়ার ইচ্ছে করলে মোয়া খাওয়া যেতে পারে। আমাদের ঘরে মাঝে মধ্যে মোয়া বানানো হত। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই মোয়া বানানো সিখেছি। মুড়ি আর গুড়ের মধ্যে অনেক পুষ্ঠিগুন রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য ভালো। প্রাতরাশের আরো কিছু রেসিপি যেমন লুচি আলুর দম, ছোলার ডাল, সুজির ইডলি, পোহা, উপমা, মুলোর পরোটা, পায়েস ইত্যাদি শেয়ার করা আছে দেখে নিতে পারেন।
মুড়ির মোয়া বানানর জন্য লাগবে মুড়ি, গুড়, জল, সাদা তেল। এই উপকরণ গুলির পরিমান নিচে মেনু কার্ডে দেওয়া আছে দেখে নিতে পারেন।
প্রণালী:
প্রথমে মুড়ি গুলোকে গরম করে নিতে হবে
চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে মুড়ি গুলো গরম করে বা ভেজে নিতে হবে তেল ছাড়া। অনেক সময় দেখা যায় ঘরে মুড়ি থেকে থেকে নেতিয়ে যায় আর পেকেটের মুড়ি ও মুচমুচে থাকে না। তাই শুকনো কড়াইতে গরম করে নিলে আগের মত মুচমুচে হয়ে যায়।
মুড়ি গরম করার সময় চুলার আঁচ একদম কম রাখতে হবে আর ক্রমাগত নাড়াতে হবে মুড়িকে। ক্রমাগত না নাড়ালে মুড়ি পুড়ে যেতে পারে।


তারপর গুড়ের টুকরো গলিয়ে নিতে হবে
মুরি গরম করার পর চুলায় সসপেন বসিয়ে তার মধ্যে টুকরো করে রাখা গুড় ও পরিমানমত জল দিয়ে দিতে হবে। গুড় পুরোপুরি গলে না যাওয়া পর্যন্ত একটু পর পর নাড়াতে হবে। যদি গুড়ের টুকরো বেশি বড় থাকে তাহলে ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। তাড়াতাড়ি গলানোর জন্য গুড়ের ছোট টুকরো করা থাকলে সুবিধা হয়।




গুড় পুরোটা গলে যাওয়ার পর একটি পাত্রের মধ্যে ছেঁকে নিতে হবে
একটি পাত্রের মধ্যে বা কড়াইয়ের মধ্যে গলে যাওয়া গুড় ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। দোকানের মোয়া খাওয়ার সময় ধুলোর কনা পাওয়া যায় তখন আর মোয়া খাওয়ার ইচ্ছে হয় না। গুড়ের মধ্যে ধুলোবালি থাকে তা পেকেটের গুড় হৌক বা খোলা বিক্রি হওয়া গুড়। এইভাবে গুড় জল গলিয়ে ছেঁকে নিলে সব ধুলোর কনা আলাদা হয়ে যাবে।


ছেঁকে রাখা গুড় কড়াইতে ঢেলে জাল দিয়ে দিতে হবে
চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে ছেঁকে রাখা গুড় ঢেলে দিতে হবে। চুলার আঁচ মধ্যমে রেখে গুড় দিতে হবে আর একটু পর পর নাড়িয়ে দিতে হবে। গুড় ঘন হয়ে আসাতে পাঁচ থেকে দশ মিনিট সময় লাগবে। যখন গুড় ঘন হয়ে আসতে শুরু করবে তখন গুড় জাল দেওয়ার সুন্দর গন্ধ বেরোবে।


গুড় ঘন হয়ে আসার পর দেখে নিতে হবে গুড়ের মধ্যে আস বেরোচ্ছে কি না
১০ মিনিট পর গুড় ঘন হয়ে আসার পর দেখে নিতে হবে যে মোয়া গড়ার মত হয়েছে কি না। খুন্তি দিয়ে নেড়ে দেখে নিতে হবে গুড়ের ঘনত্ব কতটুকু আর গুড় থেকে আস বেরোচ্ছে কি না।
যদি দেখা যায় গুড় থেকে আস বেরোচ্ছে না তখন গুড়কে জাল দিতে হবে আরো ঘন করতে হবে।

তারপর দেখে নিতে হবে গুড়কে বলের মত গড়া যাচ্ছে কি না
খুন্তির সাহায্যে অল্প গুড় তুলে নিয়ে নিতে হবে। ঐখান থেকে আঙ্গুলের ডগা দিয়ে গুড় নিয়ে দুই আঙ্গুলের ডগা দিয়ে ডলে দেখে নিতে হবে গুড়কে লাড্ডুর মত গড়া যাচ্ছে কি না। তারপর যখন দেখা যাবে গুড়কে বলের আকারে গড়া যাচ্ছে তখন মুড়ি গুলোকে অল্প অল্প করে ঢালতে হবে আর নাড়াতে থাকতে হবে।




মুড়ি গুড়ের সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে মোয়া বানিয়ে নিতে হবে
মুড়ি গুড়ের সাথে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। হাতের মধ্যে তেল বা জল লাগিয়ে গুড় মেশানো মুড়ি দুই হাতের মধ্যে নিয়ে চেপে চেপে গোল আকারের মোয়া বানিয়ে নিয়ে একটি পাত্রের মধ্যে রাখতে হবে।
গুড়ের সঙ্গে মুড়ি মেশানোর পরই দু হাতের মধ্যে তেল বা জল লাগিয়ে মোয়া বানিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে মোয়া না বানালে মুড়ি শক্ত হয়ে যাবে ফলে গোল আকারে মোয়া তৈরি করা যাবে না।
মোয়া বানানোর শেষের দিকে কিছু মুড়ি কড়াইতে এমন ভাবে লেগে থাকে যা হাত দিয়ে আলাদা করা যায় না, তখন আবার একটু সময় চুলা জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে খুন্তি দিয়ে নাড়া দিলেই সব মুড়ি উঠে আসবে।




মোয়া সংরক্ষণ করার পদ্ধতি
মুড়ির মোয়া বানানো হয়ে গেলে একটি বড় ধরনের বায়ুরোধী কৌটার মধ্যে রাখতে হবে। এইভাবে রাখলে মোয়া অনেক দিন পর্যন্ত মুচমুচে থাকবে।
ঘরে বায়ুরোধী কৌটা না থাকলে একটি কাগজ ঢাকনার আকারে কেটে কাগজটি ঢাকনার মধ্যে বসিয়ে কৌটর মুখ বন্ধ করলে আর হাওয়া ঢুকবে না।
মোয়া মুচমুচে রাখার আরেকটি পদ্ধতি হল মোয়া যে পাত্রের মধ্যে রাখা হবে ঐ পাত্রে মুড়ি ছড়িয়ে দিতে হবে।
মুড়ি খাওয়ার উপকারিতা
মুড়ি খাওয়া আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারি। মুড়ি শরীরে শক্তি বৃদ্ধ করতে সাহায্য করে। মুড়ি খেলে শরীরের অলসতা দূর হয়। মুড়িতে যে সর্করা রয়েছে তা আমাদের প্রতিদিনের কাজে শক্তি যোগায়। মুড়ি হল কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার যা খেলে ওজন বাড়ে না। মুড়িতে প্রচুর পরিমানে রয়েছে ভিটামিন বি ও মিনারেল যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। মুড়ি আমাদের শরীরের হাড়কে মজবুত করে তোলে।
গুড়ের উপকারিতা
গুড় খেলে অনেক উপকার হয় আমাদের শরীরের। গুড়ের তিন ধরনের হয় যেমন আখের গুড়, তাদের গুড় ও খেজুর গুড়। প্রত্যেকটি গুড়ের আলাদা আলাদা গুণাগুন রয়েছে। প্রচুর পরিমানে ক্যালোরি ও শর্করা আখের গুড়ে থাকার জন্য এটি ডায়রিয়ার রোগীদের জন্য ভালো। তালের গুড় খাওয়ার ফলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয় আর লিডার পরিস্কার রাখে। আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম প্রচুর পরিমাণে আছে খেজুর গুড়ের মধ্যে। যাদের রক্তস্বল্পতা আছে তাদের জন্য ভালো খেজুর গুড়।
মুড়ির মোয়া
অথিতিদের আপ্যায়নে মুড়ির মোয়া ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি সকাল বেলা চা এর সাথে বা বিকেলের জলখাবারে খাওয়া হয়। মোয়া ঘরে বানানো থাকলে সারাদিনের মধ্যে কখনও অল্প কিছু খাওয়ার ইচ্ছে করলে মোয়া খাওয়া যেতে পারে। আমাদের ঘরে মাঝে মধ্যে মোয়া বানানো হত। মুড়ি আর গুড়ের মধ্যে অনেক পুষ্ঠিগুন রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য ভালো।
Ingredients
- মুড়ি - ২০০ গ্রাম
- গুড় - ২০০ গ্রাম
- জল - পরিমানমত
- তেল - সামান্য (Refined)
Instructions
- প্রথমে গ্যাস জ্বালিয়ে কড়াই বসিয়ে মুড়ি গুলোকে শুকনো কড়াইতে দিয়ে গরম করে নিতে হবে। চুলার আঁচ একদম কম রাখতে হবে মুড়ি গরম করার সময়।
- তারপর একটি সচপেন নিয়ে চুলায় বসিয়ে তার মধ্যে টুকরো করে রাখা গুড় ও পরিমানমত জল দিয়ে গুড় গলে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে মধ্যে মধ্যে নেড়ে দিতে হবে।
- গুড় পুরো পুরি ভাবে গলে যাওয়ার পর একটি পাত্রের মধ্যে বা কড়াইয়ের মধ্যে ছেকে নিতে হবে কারণ গুড়ের মধ্যে ধুলো, বালি থাকে তাই।
- তারপর চুলায় কড়াই বসিয়ে তার মধ্যে ছেঁকে রাখা গলানো গুড় ঢেলে দিতে হবে। এরপর মধ্যম আঁচে ১০ মিনিট পর্যন্ত জাল দিতে হবে।
- ১০ মিনিট পর গুড় ঘন হয়ে আসার পর দেখে নিতে হবে যে মোয়া গড়ার মত হয়েছে কি না। খুন্তি দিয়ে নেড়ে দেখে নিতে হবে গুড়ের ঘনত্ব কতটুকু আর গুড় থেকে আস বেরোচ্ছে কি না।
- গুড় যখন একদম ঘন হয়ে আসবে তখন খুন্তির মধ্যে একটু গুড় নিয়ে নিতে হবে। তারপর হাতের আঙুলের ডগা দিয়ে সামান্য গুড় নিয়ে দেখে নিতে হবে গুড় বলের মত গড়া যায় কি না।
- তারপর যখন দেখা যাবে গুড়কে বলের আকারে গড়া যাচ্ছে তখন মুড়ি গুলোকে অল্প অল্প করে ঢালতে হবে আর নাড়াতে থাকতে হবে।
- মুড়ি গুড়ের সাথে ভালোকরে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর চুলা বন্ধ করে দিতে হবে। হাতের মধ্যে তেল বা জল লাগিয়ে গুড় মেশানো মুড়ি দুই হাতের মধ্যে নিয়ে চেপে চেপে গোল আকারের মোয়া বানিয়ে নিতে হবে।
- মুড়ির সব মোয়া বানানো হয়ে গেলে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর একটি বায়ুরোধী কৌটর মধ্যে ভরে রাখতে হবে।
Nutrition Information:
Serving Size: 40gAmount Per Serving: Calories: 132 cal
