আমার নাম মুন। আমি একজন ফুড ব্লগার, চিত্র গ্রাহক ও লেখিকা। আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা বি.এ., এল.এল.বি। আমার জন্ম ও বড় হয়ে উঠা আসামের ছোট্ট একটি শহরে। ভারতবর্ষের উত্তরপূর্ব সীমান্তে অবস্থিত একটি রাজ্য হল আসাম। চারিদিকে সবুজ আর সবুজ, ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম, শহর, নদী, পাহাড়, বন, জঙ্গলে ঘেরা একটি রাজ্য।
এখন আমি থাকি মুম্বইতে। বিয়ের পর আমার স্বামীর চাকরির সুত্রে চলে আসি মুম্বইতে। আমার স্বামী যখন অফিসে চলে যেতো তখন ভাবতাম ওই সময়টা কি করে কাজে লাগাবো।
একদিন আমার স্বামী আমাকে বলল তুমি তো নানা ধরনের রান্না করতে ভালোবাসো রান্নার ব্লগ শুরু করতে পারো। তাই ভাবলাম চেষ্টা করেই দেখি।
ছোটো বেলায় দেখেছি মাকে অনেক রকম পদ রান্না করতে। কোনো সময় খেতে দারুণ লাগতো আবার কোনো সময় মোটামুটি। মাকে যখন রান্না করতে দেখতাম তখন আমার ও ইচ্ছে হতো রান্না করার।
ছোটবেলা অনেকেই আমরা রান্না বাটি খেলেছি সেই দিনগুলির কথা মনে পড়ে। ফেলে দেওয়া সব্জির খোসা, ডাটা দিয়ে সব্জি রান্না করতাম আর ইটের গুড়ো দিয়ে মশলা বানাতাম। সেই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না শুধু স্মৃতি গুলো রয়ে গেছে মনে।
আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি তখন থেকে একটু একটু করে রান্না করার চেষ্টা করি। মনে পড়ে প্রথম রান্না করেছিলাম ডিমের ঝোল। এখন মনে হলে হাঁসি পায় যে ডিমের ঝোলে এতো আলু দিয়েছিলাম যে ঝোল আর দেখা যায় নি শুধু আলুই দেখা যাচ্ছিল।
ধীরে ধীরে চা বানাতে শিখলাম। ঘরে অথিতি আসলে মাকে চা, জলখাবার বানাতে সাহায্য করতাম। কোনো সময় আমি একা চা বানাতাম ঘরের সবার জন্য বা কেউ আসলে ঘরে, সবাই খেয়ে ভালো বলতো তখন শুনে আনন্দ পেতাম। পড়াশোনা থাকার জন্য মা বেশি রান্নাঘরে যেতে দিতেন না।
পরীক্ষা শেষ হলে কয়েক দিনের জন্য স্কুল ছুটি থাকতো তখন দাদুর বাড়ি যেতে পারবো ভেবেই ভালো লাগতো। আমার দাদুর বাড়ি গ্রামে, গ্রামের পরিবেশ শহরের থেকে আলাদা। গ্রামের পথ, ঘাট, মাঠ, পুকুর, সব্জির বাগান এইগুলো দেখতে এত ভালো লাগতো যে স্কুলের ছুটি হলেই যেতাম।
দিদা মাটির উনুনে রান্না করতেন আমি পাশে বসে দেখতাম। উনুনে রান্না করা তরকারি গুলো খেতে এতো ভালো লাগতো আমারা সবাই এক সাথে বসে মজা করে খেতাম। আরেকটি জিনিস বেশ মজা লাগত আমার সেটা হল পিঠে পুলি বানানো।
কলেজে যখন পড়তাম তখন মাঝে মধ্যে কিছু কিছু নুতন পদ রান্না করতাম। কখনও টিভি দেখে বা কখন পেপার কেটে রাখতাম তা দেখে করতাম। ঘরে পেপার দিয়ে গেলে প্রত্যেকদিন আমি খাবার দাবারের প্রণালী (রসিপি) যে অংশে দেওয়া থাকত সেই অংশ কেটে রাখতাম।

টিভির বিভিন্ন চ্যানেলে রান্নার প্রোগ্রাম দেখতাম সেখান থেকে দেখে নুতন কিছু করার চেষ্টা করতাম। আমি নুতন যা যা রান্না করতাম সেগুলি একটি নোট বুকের মধ্যে লিখে রাখতাম।

ছোটবেলা থেকে যখন সময় পেতাম একটু একটু করে চেষ্টা করতাম রান্না করার, কখনও নুন বেশি হয়ে যেতো আবার কখনও মশলা। মার রান্না করার সময় দাড়িয়ে থেকে দেখতাম কি দিয়ে কি রান্না হতো আর মশলা কি পরিমানে ব্যবহার হতো।
ধীরে ধীরে শিখলাম কোন মশলা কি পরিমানে দিতে হয়। আমি রান্না করতে করতে একটা জিনিস বুঝলাম যে নুন বা মশলা তরকারিতে কম দেওয়া হলে অসুবিধে হয় না পরিমান থেকে বেশি হয়ে গেলে খেতে ভালো লাগে না। রান্না করতে করতে বুঝা যায় কি পরিমানে কি মশলা ব্যবহার করতে হয়।
নানা ধরনের রান্না শিখতে ও করে সবাইকে খাওয়াতে খুব ভালো লাগে।
